ফলাফল নিয়ে ভোটকেন্দ্র ছাড়ার নির্দেশ বিএনপির
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় পোলিং এজেন্টদের ফলাফল নিয়ে ভোটকেন্দ্র ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। দলটির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, অতীতের যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে এবার চ্যালেঞ্জিং, তাই বিশেষ সতর্ক বিএনপির হাইকমান্ড। দলীয় পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রে শেষ পর্যন্ত থাকা এবং ভোটের ফলাফল নিয়ে ভোট কেন্দ্র ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, সারাদেশে ভোটকেন্দ্রের দলীয় পোলিং এজেন্টদের নিয়োগের কাজ শেষ করেছে বিএনপি। দলীয় পদ-পদবি আছে তাদেরকেই পোলিং এজেন্ট হওয়ার ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়েছেন। এর আগে পোলিং এজেন্টের দলীয়ভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে একাধিক কক্ষ থাকায় সেগুলো সমন্বয়ের জন্য আলাদা করে কেন্দ্র টিমপ্রধান নিয়োগ করা হয়েছে। কোনো জরুরি প্রয়োজনে কেন্দ্র প্রধানই সংশ্লিষ্ট টিম ও কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালনে গাফিলতি-দায়িত্বে অবহেলা হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে দলের পক্ষ থেকে। নির্বাচন কমিশনের আইন পোলিং এজেন্টদের যথাযথভাবে মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ফজরের নামাজ আদায় করে ভোটকেন্দ্রের সামনে দাঁড়াতে হবে। শুধু ভোট দিয়ে চলে আসলেই হবে না। একদম শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ভোট শেষ হলে ভোট গুণে হিসাব-নিকাশ বুঝে তারপরে বাড়িতে ফিরে আসবেন।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন বলেন, আমাদের পোলিং এজেন্ট চূড়ান্ত করা হয়ে গেছে। নারী ও পুরুষ পোলিং এজেন্টের ট্রেইনিং দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে তাদের দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে।
সারাদেশে বিএনপির একাধিক প্রার্থী জানায়, বিগত ১৬-১৭ বছর দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এবার সুযোগ এসেছে ভোট দেওয়ার। মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। বহুল কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন যাতে কেউ বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে সে জন্য বিএনপির প্রতিটি নেতা-কর্মী সজাগ থাকবে। একই সঙ্গে পোলিং এজেন্টেরও সজাগ থাকতে হবে। কেউ বিশৃঙ্খলা করতে আসলে আমাদের নেতাকর্মী প্রস্তুত থাকবে। তাদের অভিযোগ, অতীতের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের বাধার কারণে অনেক কেন্দ্রেই আমাদের এজেন্ট ঢুকতে পারেনি। কিন্তু এবারও নির্বাচনের ইঞ্জিনিয়ারিং বা কারচুপির আশঙ্কা রয়েছে।
রাজবাড়ী-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী মো. হারুন-অর-রশিদ বলেন, পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দেয়া শেষ হয়েছে। এ আসনে ১২০৩ জন পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভোটগ্রহণে তারা দায়িত্ব পালন করেন। তাদেরকে নির্বাচন কমিশন থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমাদের পোলিং এজেন্টের আমরা বলছি- নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করতে। নিয়মের ব্যর্থ হবে এমন কোনো কাজের করা যাবে না।
পোলিং এজেন্টদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা–১৭ আসনে দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আবদুস সালাম। তিনি বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রে তাদের সার্বক্ষণিক থাকতে বলা হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই কেন্দ্র ছেড়ে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। এছাড়া ভোটাররা কেন্দ্রে আসতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন এমন কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকতে বলেছি।
তিনি বলেন, পোলিং এজেন্টদের জন্য নির্ধারিত ফর্ম ও বক্স নম্বর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গোনার সময় নিজের কাছে সংরক্ষিত নম্বরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে। এতে কোনো গরমিল হলে সঙ্গে সঙ্গে বোঝা যাবে। কোনো কেন্দ্র বা থানায় দায়িত্বে অবহেলা হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান আব্দুস সালাম।



