Logo
Logo
×

রাজনীতি

বিপ্লবে জিতেছে জেন-জি, কিন্তু নির্বাচনে আধিপত্য পুরোনো রাজনীতিবিদদেরই

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:০২ পিএম

বিপ্লবে জিতেছে জেন-জি, কিন্তু নির্বাচনে আধিপত্য পুরোনো রাজনীতিবিদদেরই

ছবি : সংগৃহীত

আর মাত্র দুইদিন পর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। রক্তাক্ত বিপ্লবের পর ভোট হওয়ায় বাংলাদেশের এবারের নির্বাচন অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে আলাদা।বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন গতকাল সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এক বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, সাবেক স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে হটানোর বিপ্লবে বাংলাদেশের জেন-জি জয়ী হয়েছে। কিন্তু দেশের নির্বাচনে সেই পুরোনো রাজনীতিবিদরাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সিএনএন বলেছে, সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের মুখে হেলিকপ্টারে শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্য এবং তার বাড়িতে জনতার যাওয়ার বিষয়টি বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল। এরপর এই আন্দোলন থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে নেপাল ও মাদাগাস্কারের তরুণরাও তাদের সরকারের পতন ঘটিয়েছে।

কিন্তু বাংলাদেশে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তরুণরা বিপ্লব ঘটালেও যে দুজন সম্ভাব্য প্রার্থী পরবর্তী বাংলাদেশকে নেতৃত্বে দিতে যাচ্ছেন তাদের সঙ্গে সেই তরুণদের পার্থক্য অনেক বেশি।

সংবাদমাধ্যমটি বিএনপির ৬০ বছর বয়সী চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৬৭ বছর বয়সী আমির ড. শফিকুর রহমানের প্রতি ইঙ্গিত করেছে।

সিএনএন সাদমান মুজতবা নামে এক বিক্ষোভকারীর কথা উল্লেখ করেছে। যিনি আক্ষেপ করে বলেছেন, বিপ্লবের পর যে পরিবর্তন ও সংস্কারের আশা তারা করেছিলেন, তার কিছুই হয়নি। তিনি বলেছেন, “আমরা এমন দেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম যেখানে লিঙ্গ, বর্ণ, ধর্মসহ সবকিছুর ওপর সবাই একইরকম সুবিধা ভোগ করবে। আমরা নীতি পরিবর্তন এবং সংস্কার প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু আমরা এ নিয়ে যেসব স্বপ্ন দেখেছিলাম, সেগুলো পূরণ হওয়ার ধারেকাছেও যায়নি।”

সিএনএন বলেছে, হাসিনার পতনের পর ১৭ বছর দমন-নিপীড়নের পর প্রধান রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে বিএনপি। নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরা দলটির প্রধান নেতা তারেক রহমান এবারের নির্বাচনে সম্ভাব্য জয়ীদের মধ্যে এগিয়ে আছেন বলেও জানিয়েছে তারা।

অপরদিকে জামায়াতে ইসলামী ‘ফিরে আসা’ উপভোগ করছে উল্লেখ করে সিএনএন বলেছে, হাসিনার সময়ে অত্যাচারের শিকার হওয়ার পর জামায়াত পুনরুত্থান দেখছে।

জুলাই বিপ্লবের পর তৈরি হওয়া এনসিপিকে নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, এনসিপি বাংলাদেশের ‘সহিংস’ রাজনীতিতে শক্তিশালীভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি। উল্টো তারা ডিসেম্বরে জামায়াতের সঙ্গে জোট করার ঘোষণা দেয়। যা অনেককে অবাক করেছিল।

সোয়াস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিস প্রফেসর নাওমি হোসেন সিএনএনকে বলেছেন, “জামায়াতের সঙ্গে এ জোটের অন্যতম কারণ হলো নিরাপত্তা। এছাড়া জামায়াতের সঙ্গে জোট করলে এনসিপির কিছু নেতার জয়ের সম্ভাবনাও রয়েছে।”

সংসদের প্রতিনিধি হলে সহিংস রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নিরাপত্তা পাওয়ার বিষয়টিও এক্ষেত্রে অবদান রেখেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, এনসিপির নেতারা মনে করেছে যদি তারা (জোট করে) সংসদে যেতে পারে তাদের নিরাপত্তাও বাড়বে।

তবে যে জামায়াতের সঙ্গে তারা জোট করেছে, তারা কোনো নারীকে নির্বাচনের সুযোগ দেয়নি। এ নিয়ে এনসিপির অনেকেই ক্ষুব্ধ। তাদের মধ্যে অন্যতম নাফিজা জান্নাত।

তিনি বলেছেন, “এনসিপি সংস্কার, অন্তর্ভুক্তিসহ অনেক কিছুর ব্যাপারে কথা দিয়েছিল।” জামায়াতের সঙ্গে জোট এবং কোনো নারীকে নমিনেশন না দেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেছেন, “এটি একটি অসম্মানজনক ঘটনা। আমি তাদের বলেছি এটি আমাদের জন্য কতটা লজ্জাজনক।”

তবে এবারের নির্বাচনে অনেক কিছু নতুন আসবে বলেও মনে করছেন অনেকে।

সূত্র: সিএনএন

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন