নানার বাড়ির এলাকায় গিয়ে ভোট চাইলেন তারেক রহমান
অনলাইন ডেস্ক :
প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
নানার বাড়ির এলাকা দিনাজপুরের বিরামপুরে নির্বাচনি জনসভায় গিয়ে ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, কেমন আছেন আপনারা? বহু বছর পর নানাবাড়ি আসছি। এখন নাতি এল, কিছু খাওয়ালেন না, এটা কি ভালো কথা হলো। নাতি যে আসছে, একটা জিনিস দিতে হবে। কী দেবেন নানির বাড়ির লোক? ভোট দেবেন। কিসে ভোট দেবেন? ধানের শীষে। এ সময় বিএনপি চেয়ারম্যানের আবদারে উপস্থিত জনতা হাত নেড়ে সম্মতি জানান।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকাল পৌনে ৪টায় বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে ধানের শীষের জনসভায় তারেক রহমান বলেন, গত ১৬ বছরে আমাদের বহু নেতাকর্মী রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের জন্য অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। আজকে আল্লাহর রহমতে আমাদের মাঝে সুযোগ এসেছে। এই এলাকার যত মানুষ আছে মুসলমান, হিন্দু, আদিবাসী, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ—সবাই মিলে ১২ তারিখে আমাদের রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করব।
তিনি বলেন, ১৬ বছর ধরে সমগ্র বাংলাদেশের মানুষকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। নারীদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। তরুণ সমাজ-যুব সমাজের ঠিকমতো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়নি। এলাকার উন্নয়ন করা হয়নি। মিল-ফ্যাক্টরি স্থাপন করা হয়নি। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সন্তান যারা তাদের শিক্ষার ব্যবস্থা ঠিকভাবে করা হয়নি। এলাকার রাস্তাঘাটের পুনর্নির্মাণ করা হয়নি, মেরামত করা হয়নি। হাসপাতালগুলোতে ঠিকমতো ডাক্তারের ব্যবস্থা করা হয়নি। স্কুল-কলেজগুলোতে ঠিকমতো শিক্ষকের ব্যবস্থা করা হয়নি। এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে।
প্রয়াত মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথা উল্লেখ করেন তিনি বলেন, এই এলাকার সন্তান খালেদা জিয়া। তিনি যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন সারা দেশের মেয়েদের ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি করে দিয়েছিলেন। আমরা চাই মা-বোনদের খালেদা জিয়া যে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিয়েছেন, সেই মা-বোনদেরসহ খেটে খাওয়া যত নারী আছে, গৃহিণী আছে সবার কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে। এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে মা-বোনদের কাছে সরকার থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সহযোগিতা পৌঁছে দিতে চাই। এর মাধ্যমে তারা অর্থনৈতিকভাব ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারেন।
বিএনপি জিতলে নিরাপদ ও মেধাভিত্তিক দেশ গঠন করা হবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আমরা সেই বাংলাদেশ চাই যেখানে আমাদের মা-বোনেরা সন্ধ্যার পরও নিরাপদে রাস্তায় চলাচল করতে পারবে। যেখানে আমার ভাইয়েরা নিরাপদে জীবন যাপন করবে, চাকরি করবে, নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবে। আমরা মুসলমান হই, আদিবাসী হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান হই, আমাদের পরিচয় হবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে। আমাদের পরিচয় ধর্ম নয়, আমাদের পরিচয় হবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে।
দিনাজপুরে কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়ে তারেক রহমান বলেন, এই এলাকার লিচু বিখ্যাত। কিন্তু এই লিচুকে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বিদেশে রপ্তানি করতে পারব কিনা, সেটা চেষ্টা করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু ১২ তারিখের নির্বাচনে বিএনপি জয়যুক্ত হলে দিনাজপুরের লিচুকে যেন হিমাগারে রাখতে পারি, ঠিকমতো বিদেশে পাঠাতে পারি—সেই পদক্ষেপ আমরা নিতে চাই। এই এলাকার কাটারিভোগ চাল জগদ্বিখ্যাত। এই চালকে আমরা পৃথিবীর আনাচকানাচে রপ্তানির মাধ্যমে পৌঁছে দিতে চাই।
জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য রাখেন- জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দিনাজপুর-৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, দিনাজপুর-৫ আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার কামরুজ্জামান, দিনাজপুর-৪ আসনের প্রার্থী আক্তারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, এমএ জলিল, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মকবুলার রহমান গোর্কীসহ জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহম্মেদ কচি।



