বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার আজ
দুর্নীতি দমন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিচারে অগ্রাধিকার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
‘সবার আগে বাংলাদেশ’— রাষ্ট্র পরিচালনার এই মূলনীতিকে সামনে রেখে আজ নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ইশতেহারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিচার, মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন এবং জনজীবন সংশ্লিষ্ট নানা সংস্কারমূলক পরিকল্পনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ছয় দিন আগে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার ঘোষণা করবেন। দলটির মিডিয়া সেল জানায়, বিকেল সাড়ে ৩টায় অনুষ্ঠান শুরু হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সঞ্চালনা করবেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ইশতেহারটি বিএনপির ঘোষিত ‘রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা’, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘১৯ দফা’, বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন-২০৩০’ এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর সমন্বয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে।
ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড চালু, স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ, বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য স্টার্টআপ ফান্ড, আইটি পার্ক ও ফ্রি ওয়াইফাই জোন স্থাপনসহ একগুচ্ছ জনমুখী প্রতিশ্রুতি থাকছে। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণের অঙ্গীকার করা হয়েছে।
শিক্ষা খাতে সংস্কারের অংশ হিসেবে উচ্চপর্যায়ের শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন, মাধ্যমিক স্তর থেকেই কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্তি এবং আন্তর্জাতিক মানের পাঠ্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও ইশতেহারে স্পষ্ট করা হয়েছে।
পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণ, প্লাস্টিক বর্জ্য ৩০ শতাংশ কমানো এবং সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির ঘোষণা থাকছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদন ক্ষমতা ৩৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানসহ বিগত স্বৈরাচারী আমলের সকল মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার, গুম বন্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন এবং পুঁজিবাজার ও আর্থিক খাতের অনিয়ম তদন্তে বিশেষ কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক করতে প্রতি বছর উন্মুক্ত স্থানে ‘উন্নয়ন জনসভা’ আয়োজনের অভিনব পরিকল্পনাও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ নীতির আলোকে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ সব ধর্মের উপাসনালয়ের নেতাদের জন্য মাসিক সম্মানী ও উৎসব ভাতার ঘোষণা থাকছে।
বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ আলমগীর পাভেল বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নই এই ইশতেহারের মূল লক্ষ্য। অন্যদিকে স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা, মানবাধিকার সুরক্ষা ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ইশতেহারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
দলটির নেতারা আশা প্রকাশ করেন, এই ইশতেহার জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে এবং একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেবে।



