Logo
Logo
×

রাজনীতি

হাসিনাপুত্র জয়ের ভার্চুয়াল বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া

Icon

অনলাইন ডেস্ক :

প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:১১ পিএম

হাসিনাপুত্র জয়ের ভার্চুয়াল বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া

ছবি : সংগৃহীত

কলকাতা আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (আইসিসিআর) মিলনায়তনে বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল বক্তৃতা করেন বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমত্যাচ্যুত ও স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

তিনি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন ও সেই সময় নিহতদের বিষয়ে বক্তব্য দেন, যা নিয়ে কলকাতার রাজনীতিতে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।     

জয় তার বক্তব্যে বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় ‘অনেক নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু হয়েছে’ এবং তার মতে তা একটি ভুল ছিল। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান নির্বাচন সম্পর্কে মন্তব্য করেন।

এ বক্তব্য ঘিরে কলকাতার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের প্রতিক্রিয়া ও মতামত বিভিন্ন দিক থেকে এসেছে। কেউ সরাসরি বক্তব্য দিয়েছে,  আবার কেউ সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন। 

প্রথম প্রতিক্রিয়া এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের তরফ থেকে। নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক এক তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সংবাদমাধ্যমকে জানান, এ ধরনের বিতর্কিত রাজনৈতিক ভাষণ কলকাতার কোন বই প্রকাশের অনুষ্ঠান বা জনসাধারণের সভায় হওয়া উচিত নয়। এমন মন্তব্য সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। 

তিনি বলেন, কলকাতা আমাদের সাংস্কৃতিক রাজধানী, এখানে রাজনৈতিক কণ্ঠ ওঠা উচিত কিনা সেটা অনেকেই ভাবছেন। 

বিজেপির প্রতিনিধি পঙ্কজ রায় এ অনুষ্ঠানের সময় বক্তব্য রাখেন এবং সংবাদমাধ্যমে বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতামত ব্যক্ত করা প্রতিটি মানুষের অধিকার এবং আমরা এখানে বিষয়টি নিয়ে সুস্থ আলোচনার পথ দেখতে চাই।

তিনি বলেন, বই প্রকাশনা একটি সাহিত্যিক অনুষ্ঠানের বিষয়, কিন্তু রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থাকলে তা আলোচনার বিষয় হতে পারে। 

ভারতীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সাংবাদিক জয়ন্ত ঘোষাল বলেন, সুস্পষ্টভাবে রাজনৈতিক বক্তব্য বই প্রকাশের অনুষ্ঠানের আড়ালে চলে গেছে। এটা কেবল একটি সাহিত্যিক আলোচনার জায়গা নয় বরং রাজনৈতিক ইস্যুতে জনমতের ক্ষুদ্র পরিসর তৈরি করেছে। তার মতে, বক্তৃতার সময় সজীব ওয়াজেদ জয়ের মন্তব্যগুলো কলকাতার রাজনৈতিক জনমতকে বিভক্ত করেছে।  

পশ্চিমবঙ্গের স্বাধীন লেখক ও পরিচালক দীপ হালদার বলেন, আমরা এখানে আসি বইয়ের গল্প ও সাহিত্যকে শ্রোতা-দর্শকের সামনে তুলে ধরতে। কিন্তু বক্তৃতার ভাষ্য অনেক সময় রাজনৈতিক ধরণের হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের উচিত ছিল এখানে সাহিত্যিক আলোচনার দিকে মনে রাখা।

এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের এক বিধায়ক বলেন, এ ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য এখানে সঠিক না হলেও সব মতামতই প্রকাশের অধিকার আছে। তবে পত্রিকা বা রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত তাদের নিজস্ব কর্মসূচিতে এই ধরনের বিষয় তুলে ধরা। তার বক্তব্য, কলকাতার রাজনৈতিক কর্মীরা এই বক্তৃতা নিয়ে ইতোমধ্যেই নিজেদের মধ্যে তর্ক শুরু করে দিয়েছে।  

সরকার সমর্থিত বামপন্থি এক বিশ্লেষক বলেন, কলকাতার মতো জনসমাবেশ কেন্দ্রের মঞ্চে এমন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বক্তব্য তুলতে হলে আগে ভাবতে হবে এতে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কী প্রভাব পড়বে।তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা উচিত।

এ প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই কলকাতার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিতর্ক তৈরি হয়েছে যে কোনও সাহিত্য বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বক্তৃতা দেওয়া কি ঠিক কিনা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন এ ধরনের বক্তব্য স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার তাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

অন্যদিকে বই প্রকাশ অনুষ্ঠানের আয়োজক সংগঠন ‘খোলা হাওয়া’-র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি একটি সাহিত্যিক অনুষ্ঠান এবং আলোচনা হওয়া সত্ত্বেও বক্তৃতাগুলোকে আমরা রাজনৈতিক মন্তব্য বলে মনে করি না, বরং এটি শুধুই একটি বইয়ের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক সত্যিকার প্রেক্ষাপট তুলে ধরার সুযোগ। 

এ ধারাবাহিক প্রতিক্রিয়া ও তর্ক-বিতর্ক কলকাতার রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নিম্নমুখী বা ঊর্ধ্বমুখী কোনো দিকেই এখনও চূড়ান্ত রূপ নেয়নি। তবে রাজনৈতিক নেতারা ও বিশ্লেষকদের মধ্যে এ ঘটনার মাধ্যমে স্থানীয় রাজনৈতিক মঞ্চে আলোচনার নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে মনে করছেন।

   

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন