২০২৫ সালে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে রাজনৈতিক সহিংসতা: টিআইবি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:০৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
২০২৫ সালে দেশজুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছর সারা দেশে মোট ৪০১টি রাজনৈতিক সহিংসতায় অন্তত ১০২ জন নিহত হয়েছেন এবং একই সময়ে এক হাজার ৩৩৩টি অস্ত্র নিখোঁজ হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরবর্তী ৩৬ দিনের মধ্যে অন্তত ১৫ জন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কনফারেন্স রুমে ‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, থানা থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র লুট হওয়া এবং নতুন করে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ায় সহিংসতার ঝুঁকি বেড়ে গেছে। নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী জনবলের মাত্র ৯ থেকে ১০ শতাংশ পুলিশ সদস্য হওয়ায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় বড় ঘাটতি রয়েছে।
২০২৫ সালে সংখ্যালঘুদের ওপর ৫০টির বেশি হামলার ঘটনা নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে ডিপফেক ও ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে পড়ার হুমকিকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে মাঠ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। গত কয়েকটি নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়া, উপদেষ্টাদের দলীয়করণ এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংশয় ও মতবিরোধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনের মতো দলগুলোর জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
এ ছাড়া ৪৬টি আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে উচ্চ আদালতে অন্তত ২৭টি রিট আবেদন দাখিল হয়েছে। প্রায় ১২ হাজার ৫৩১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র হিসেবে অনুপযোগী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইলেকশন কমিশন কর্তৃক প্রাথমিকভাবে বাছাই করা ৭৩টি পর্যবেক্ষক সংস্থার অনেকগুলোই নামসর্বস্ব বা সক্ষমতাহীন বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রার্থীর মনোনয়ন যাচাই-বাছাই, ঋণ খেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষেত্রে পক্ষপাতের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে হলফনামায় দাখিল করা তথ্য যাচাই করার সক্ষমতা ও ব্যবহার নিয়েও ঘাটতির কথা বলা হয়েছে।
টিআইবির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, প্রতিটি বড় রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধেই নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তবে আচরণবিধি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে নির্বাচন কমিশনের শক্ত অবস্থান নেই।
প্রতিবেদনটির পর্যবেক্ষণে নির্বাচন ও গণভোট উভয় ক্ষেত্রেই প্রযুক্তি, আইন ও প্রক্রিয়াগত বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভুয়া বা অপতথ্য ছড়ানোর আশঙ্কাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।



