লেবার পার্টি যোগ দিচ্ছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১৭ এএম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গঠিত জামায়াত নেতৃত্বাধীন আসন সমঝোতার জোটটি আবারও ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’তে রূপ নিতে যাচ্ছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট ছাড়ার পর যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, সেখানে নতুন করে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ লেবার পার্টি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য এবং লেবার পার্টির সভাপতি ড. মুস্তাফিজুর রহমান ইরানের মন্তব্যে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এর আগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আকস্মিকভাবে জোট থেকে বের হয়ে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিলে ১১ দলীয় আসন সমঝোতার জোটটি ‘১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’তে পরিণত হয়।
লেবার পার্টি জোটে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে দলের সভাপতি ড. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, কথাবার্তা চলছে। আমি নিজে নির্বাচনে নেই, তবে আমাদের দলের ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আসন নিয়ে এই মুহূর্তে কিছু করা সম্ভব না। তবে একটি ফরম্যাটে ১০ দলীয় জোটে যাওয়ার আলোচনা হচ্ছে। আজ বা কাল বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
তিনি আরও বলেন, আমি এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত না। তবে সিদ্ধান্ত হলে তা জানতে পারবেন।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় ইসলামপন্থি দলগুলোর ঐক্য নতুন করে আলোচনায় আসে। ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন ইসলামপন্থি দলের শীর্ষ নেতারা একসঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বরিশাল সফরকালে চরমোনাই পীরের দরবারে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ রেজাউল করিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরবর্তী যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে ইসলামী দলগুলোর ঐক্য প্রশ্নে তারা জনগণের কাছে দোয়া চান এবং একটি ভোটবাক্সে ভোট দেওয়ার প্রচেষ্টার কথা জানান।
এরপর জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনসহ আটটি দল নিয়ে একটি জোট গঠিত হয়। এসব দলের মধ্যে ছিল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জাগপা ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি।
পরবর্তীতে আসন সমঝোতার স্বার্থে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) যুক্ত হলে জোটটি ১১ দলে উন্নীত হয়। তবে শেষ মুহূর্তে আসন সমঝোতা নিয়ে টানাপোড়েনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট ত্যাগ করলে সেটি আবার ১০ দলে নেমে আসে।
ইসলামী আন্দোলন বের হয়ে যাওয়ার পর থেকেই নতুন শরিক খোঁজ শুরু হয়। সেই প্রক্রিয়াতেই লেবার পার্টির সঙ্গে আলোচনা এগোয়।
১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ড. হামিদুর রহমান আযাদ শনিবার (২৪ জানুয়ারি) কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় এক পথসভায় বলেন, আজ গোটা জাতি দুই ধারায় বিভক্ত। একদিকে ১১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। আপনারা বলবেন ১০ দল—আমি আগাম ঘোষণা দিচ্ছি, কাল আরও একটি দল যুক্ত হবে। সে কারণেই আমাদের ১১ দলীয় ঐক্য।
যদিও তিনি বক্তৃতায় দলের নাম উল্লেখ করেননি, সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সেটি লেবার পার্টিই।
বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের দীর্ঘদিনের মিত্র ছিল লেবার পার্টি। তবে নির্বাচনে প্রত্যাশিত আসন না পাওয়ায় আগেই বিএনপির জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয় দলটি। এবার তারা জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হতে যাচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ১০ দলীয় জোট বড় হচ্ছে। অন্তত একটি দল যুক্ত হওয়া নিশ্চিত। বাস্তবিক অর্থে এখন আসন সমঝোতা সম্ভব না হলেও ভিন্ন কৌশলে রাজনৈতিক সমঝোতা হতে পারে।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে মনোনয়নপত্র দাখিল, বাছাই, আপিল ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সব প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আনুষ্ঠানিক প্রচারণা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে গণভোটও।
এই নির্বাচনে প্রায় দুই হাজার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে দুটি বড় রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে—একদিকে বিএনপি ও তাদের আসন সমঝোতার শরিকরা, অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ‘১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’, যা এখন আবার ১১ দলে রূপ নিতে যাচ্ছে।



