বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়ন বৈধ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১০ পিএম
নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল শুনানিতে বৈধতা পেয়েছেন ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিশিষ্ট শিল্পপতি আব্দুল আউয়াল মিন্টু। রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে ফুল কমিশন এই সিদ্ধান্ত দেন। এর ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আর কোনও আইনি বাধা থাকল না।
এর আগে একই আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিক গত ৯ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। আপিলে অভিযোগ করা হয়, আবদুল আউয়াল মিন্টু মার্কিন নাগরিকত্ব প্রত্যাহার না করেই নির্বাচনি হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার তথ্য গোপন করেছেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তার মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানানো হয়।
আপিলে ফেনী জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হক-কে বিবাদী করা হয়। আপিলে বলা হয়, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করার পরও মিন্টুর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল।
ইসিতে আপিল শুনানিতেও মিন্টুর মনোনয়ন বৈধ ঘোষিত হওয়ায় দাগনভূঞা ও সোনাগাজী উপজেলায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। বিভিন্ন এলাকায় নেতা-কর্মীদের আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন বলেন, ইসির রায়ের মাধ্যমে আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং সত্যের জয় হয়েছে। বিএনপির নেতা-কর্মী ও এলাকাবাসী স্বস্তিবোধ করছে এবং ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হবে।
সোনাগাজী উপজেলা যুবদলের সভাপতি খুরশিদ আলম ভূঁঞা বলেন, বিএনপি প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুকে জয়ী করতে দলমত নির্বিশেষে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। দল যার যার, মিন্টু ও ধানের শীষ সবার-এই মনোভাব নিয়েই মানুষ এগোচ্ছে।
তার মতে, মিন্টু প্রার্থী হওয়ায় আসনটিতে ভোটের হিসাব ওলটপালট হয়ে গেছে এবং আওয়ামী লীগের ভোটও ধানের শীষের দিকে ঝুঁকছে। বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত দাগনভূঞা ও সোনাগাজী উপজেলায় এর আগে কোনও দল থেকেই হেভিওয়েট প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি, যা এবার বিএনপির জন্য বাড়তি সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সব শঙ্কার মধ্যেও মিন্টু ও মানিক একই উপজেলার বাসিন্দা হওয়ায় প্রথমবারের মতো দাগনভূঞা থেকে সংসদ সদস্য পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে এ আসনে ফেনী সদর, সোনাগাজী, সেনবাগ ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও কখনো দাগনভূঞা উপজেলা থেকে এমপি নির্বাচিত হননি।
২০০৮ সালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ থেকে আবুল বাসার, ১৯৯৬ সালে বিএনপি থেকে সাংবাদিক ফেরদৌস আহমেদ কৌরেশী, ২০১৮ সালে আকবর হোসেন, ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টি থেকে রিন্টু আনোয়ার এবং ১৯৭০, ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে জামায়াত থেকে মকবুল আহমদ নির্বাচন করলেও কেউ এমপি হতে পারেননি।
প্রতিবারই দাগনভূঞা থেকে একাধিক প্রার্থী থাকলেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন অন্য উপজেলা থেকে। এবার প্রথমবারের মতো বিএনপি বা জামায়াত- যিনিই বিজয়ী হন, দাগনভূঞা থেকেই এমপি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা ঘিরে রয়েছে বাড়তি উচ্ছ্বাস। ভোটারদের মতে, মিন্টু ও মানিকের মধ্যে জমজমাট লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
ফেনী-৩ আসনে মোট প্রার্থী ৯ জন। তারা হলেন- বিএনপি প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু, জামায়াতে ইসলামীর ফখরুদ্দিন মানিক, জাতীয় পার্টির মো. আবু সুফিয়ান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. সাইফ উদ্দিন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. আবু নাছের, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) আবদুল মালেক, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ খালেদুজ্জামান পাটোয়ারী, ইনসানিয়াত বিপ্লবের হাসান আহমেদ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আলী।
এই আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ১১ জন। এর মধ্যে দুইজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন রিটার্নিং কর্মকর্তা বাতিল করেন। ফেনী-৩ (দাগনভূঁঞা ও সোনাগাজী উপজেলা) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৮ হাজার ১৯২ জন। তম্মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬৩ হাজার ২২৫ জন ও মহিলা ভোটার ২ লাখ ৪৪ হাজার ৯৬৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গে দুজন।



