ইসলামী আন্দোলনের জন্য এখনো অপেক্ষা করছে জামায়াত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ১১ দলীয় জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সরে যাওয়ার পর জরুরি বৈঠক করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সাংবাদিকদের বলেন, ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। ইসলামী আন্দোলন যদি জোটে না ফেরে, তাহলে বাকি ৪৭টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করবে জোটের অন্য দল।
তিনি জানান, বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আজকের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে নির্বাচনী সফরসূচি চূড়ান্ত করা এবং নির্বাচনী নীতিনির্ধারণী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ২০ জানুয়ারি জানানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলারও নিন্দা জানিয়ে দ্রুত মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একক নির্বাচনের ঘোষণা দেয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জামায়াত আদর্শচ্যুত হয়নি এবং কাউকে তুচ্ছতাচ্ছিল্যও করেনি।’
এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের দাবি, সম্মিলিতভাবেই এগিয়ে চলার একটি প্রক্রিয়া চলছিল। জোটভুক্ত ১০ দলের মধ্যে ইতোমধ্যে ২৫৩টি আসনের বণ্টন সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ৪৭টি আসন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিষয়ে জোটের লিয়াজোঁ কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি বলেন, ‘আসন সমঝোতা, রাজনৈতিক আলোচনা কিংবা পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো পক্ষকেই অসম্মান বা চাপ প্রয়োগ করা হয়নি; বরং সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, বাস্তবতা ও সম্মান বজায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মনোনয়ন দাখিলের পরও কিছু বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাকি থাকায় পর্যায়ক্রমে আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে লিয়াজোঁ কমিটি মাঠের বাস্তবতা, দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তি, প্রার্থীর পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা, প্রতিদ্বন্দ্বী দলের অবস্থানসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে একাধিক জরিপের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এ প্রক্রিয়ায় আট থেকে ১০টি জরিপ বিশ্লেষণ করা হয়।’
আসন বণ্টন ছিল সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ফল, কাউকে কিছু চাপিয়ে দেওয়া হয়নি জানিয়ে জুবায়ের বলেন, ‘কিছু আসন এক দফায় ঘোষণা করা হলেও কয়েকটি বিষয়ে মতভিন্নতা থাকায় সময় নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা হয়েছে। গত কয়েক দিনে দীর্ঘ বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়গুলো নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়েছে।’



