আসন বণ্টনে চূড়ান্ত সমঝোতার পথে জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দল, শিগগিরই ঘোষণা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১৪ পিএম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ১১ দলের নেতারা জানিয়েছেন, কয়েক মাসের আলোচনা শেষে অধিকাংশ মতপার্থক্য দূর হওয়ায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন বণ্টন নিয়ে তারা চূড়ান্ত সমঝোতার একেবারে কাছাকাছি পৌঁছেছেন। প্রায় তিন মাস ধরে চলা আলোচনার পর ৩০০ আসনে সমঝোতার বিষয়ে এখন তারা আশাবাদী।
এ সময় দলগুলো দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠক করেছে। শিগগিরই ১১ দল একসঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ বৈঠকে বসার কথাও রয়েছে। নেতাদের দাবি, আগামী ২০ জানুয়ারি মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনের আগেই আসন বণ্টনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
সমঝোতা কবে ঘোষণা আসতে পারে জানতে চাইলে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম শনিবার বলেন, ‘এক-দুই দিনের মধ্যেই আমরা ঘোষণা দেবো।’ রাজধানীর একটি হোটেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি) ও এনসিপির পাশাপাশি এই জোটে রয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)। শুরুতে সমমনা আট দল নিয়ে জোট গঠনের কথা থাকলেও পরে এনসিপি, এলডিপি ও এবি পার্টি এতে যোগ দেয়।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আমরা মোটামুটি একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি। সবাই মিলেই চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব আশরাফুল আলম জানান, নির্দিষ্ট আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত হলে অন্যদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রথমে জামায়াত, পরে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়গুলো মীমাংসা করা হচ্ছে। এরপর এনসিপির সঙ্গে বসতে হতে পারে। এভাবেই আলোচনা এগোচ্ছে। তিনি জানান, কিছু আসনে এক পক্ষ ছাড় দিলেও অন্য পক্ষ রাজি না হওয়ায় এক-দুটি আসনের জন্য একাধিক বৈঠক করতে হয়েছে। এ কারণেই সময় লেগেছে। গত বৃহস্পতিবারও তার দল জামায়াতের সঙ্গে বৈঠক করেছে বলে জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, শুরুতে ইসলামী আন্দোলনের ১০০টির বেশি আসনের দাবিতে আলোচনা জটিল হয়ে পড়ে। অন্য দলগুলোর বাড়তি আসনের দাবিও পরিস্থিতি কঠিন করে তোলে। ২৮ ডিসেম্বর মনোনয়ন জমার শেষ দিনের ঠিক আগের দিন এনসিপিসহ তিনটি দল জোটে যোগ দেওয়ায় অনিশ্চয়তা আরও বেড়ে যায়। এরপর নতুন দল অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রকাশ্যে সন্দেহ ও অনাস্থা প্রকাশ করে ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শীর্ষ নেতারা। তাদের অভিযোগ ছিল, জামায়াত একতরফাভাবে নতুন দল যুক্ত করেছে।
চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়ায় ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিনে জামায়াত ২৭৬টি আসনে প্রার্থী দেয়। ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী দেয় ২৬৮টি আসনে। এ ছাড়া এনসিপি ৪৪টি, এবি পার্টি ৫৩টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪টি এবং খেলাফত মজলিস ৬৮টি আসনে প্রার্থী দেয়। এতে সবচেয়ে বেশি দ্বন্দ্ব তৈরি হয় জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, অন্তত ২৪০টি আসনে দুই দলের প্রার্থীরা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন, যেখানে উভয় দলের একাধিক শীর্ষ নেতাও প্রার্থী।
আলোচনায় যুক্ত সূত্রগুলো জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামী আন্দোলন কিছুটা নমনীয় হয়েছে। গত কয়েক দিনে প্রায় ৪০টি আসন নিয়ে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে। যদিও দলটি এখনও আরও বেশি আসনের দাবি জানাচ্ছে। জনপ্রিয়তা ও প্রার্থীর যোগ্যতা বিবেচনায় জামায়াত আরও কিছু আসনে ছাড় দিতে পারে বলেও ইঙ্গিত রয়েছে।
জামায়াতের সূত্র অনুযায়ী, এনসিপিকে প্রায় ৩০টি আসন দেওয়া হতে পারে। এলডিপি ও খেলাফত মজলিস পেতে পারে সাতটি করে আসন। এবি পার্টি ইতোমধ্যে দুটি আসন পেয়েছে, যা বাড়িয়ে তিনটি করা হতে পারে। বিডিপি পেতে পারে দুটি আসন এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সর্বোচ্চ ১৫টি আসন পেতে পারে।
জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধানও আসন সমঝোতার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার দল অন্তত দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে বলে তিনি জানান।



