বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে অস্বস্তিতে বিএনপির জোট শরিকরা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটগত সমঝোতায় শরিকদের জন্য ছেড়ে দেওয়া ১৪টি আসনের কয়েকটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির একাধিক নেতা। এতে শরিক দলের প্রার্থীরা বিব্রত ও কিছুটা বিচলিত হলেও বিষয়টিকে বড় কোনো চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন না তারা। অন্যদিকে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের দমনে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করছে বিএনপি।
আসন সমঝোতা নিয়ে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর শেষ পর্যন্ত ১৪টি আসনে ছাড় দেয় বিএনপি। এসব আসনে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া দলটি তাদের মনোনীত প্রার্থীদের প্রত্যাহার করে নেয়। সমঝোতা অনুযায়ী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একাংশ পেয়েছে চারটি আসন, গণতন্ত্র মঞ্চ তিনটি, জাতীয় সমমনা জোট একটি এবং গণ অধিকার পরিষদ একটি আসন।
এছাড়া কৌশলগত কারণে দল বা সংগঠন বিলুপ্ত করে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষে নির্বাচন করছেন আরও কয়েকজন নেতা। তাদের মধ্যে রয়েছেন এলডিপির মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. রেদোয়ান আহমেদ, এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের আরেক অংশের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাস।
তবে কেন্দ্র থেকে ছাড় দেওয়ার পরও নির্দেশনা অমান্য করে শরিকদের আসনে মনোনয়নের আশায় থাকা স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাও রয়েছেন। এ পর্যন্ত এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপি নয়জন নেতাকে বহিষ্কার করেছে।
বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম (নীরব), কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন, মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহ আলম, আবদুল খালেক, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি তরুণ দে, সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান।
এদিকে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা সত্ত্বেও কিছু এলাকায় শরিক দলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বিএনপির নেতাকর্মীদের অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। তবু নির্বাচনকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন না শরিক নেতারা।
ঢাকা-১২ আসনে বিএনপির ছাড় পাওয়া বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘আমার আসনে আগে বিএনপির যিনি মনোনীত ছিলেন, তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি এখন স্বতন্ত্র প্রার্থী। বিষয়টি কিছুটা অস্বস্তিকর হলেও যদি সমঝোতা ভেঙে যায়, তার দায় বিএনপিকেই নিতে হবে এবং সেটি ভবিষ্যতের রাজনীতিতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।’
অন্যদিকে পটুয়াখালী-৩ আসনের প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক নুর বলেন, ‘তারেক রহমান আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমার আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকলেও সেটিকে আমি বড় চ্যালেঞ্জ মনে করি না, কারণ এটি ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি নয়।’
এ প্রসঙ্গে বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, সমঝোতার আসনগুলোতে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চলমান থাকবে। গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে নেতাকর্মীদের ধৈর্য ও সহনশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘শরিক দলের আসনে যারা বিদ্রোহী হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গণতান্ত্রিক অর্ডার ফিরিয়ে আনতে হলে আমাদের সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে, প্রয়োজনে ত্যাগ স্বীকারও করতে হবে।’



