মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেট সংযোজনের সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব
যুগের চিন্তা ২৪ অনলাইন
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
মোটরসাইকেলের সম্মুখভাগে ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট সংযোজনের সময়সীমা আগামী ১৫ নভেম্বরের পরিবর্তে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
বিআরটিএর চেয়ারম্যানের বিবেচ্যপত্রে বলা হয়েছে, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত মোটরযানের সংখ্যা প্রায় ৬৮ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ৫০ লাখই মোটরসাইকেল, যা মোট নিবন্ধিত যানবাহনের প্রায় ৭৪ শতাংশ। এত বিপুলসংখ্যক মোটরসাইকেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সামনের নম্বরপ্লেট সংযোজন বাস্তবায়ন করা কঠিন হওয়ায় সময় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
বিআরটিএ জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে মোটরসাইকেল মালিকদের নানা মতামত ও উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সময়সীমা ১৫ নভেম্বর থেকে বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বিআরটিএর এক গণবিজ্ঞপ্তিতে মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বরপ্লেট স্থাপন করে প্রদর্শনের জন্য ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল।
সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২ অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের পেছনের অংশে আরএফআইডি-সংবলিত উন্নতমানের রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ ধাতব নম্বরপ্লেট ব্যবহারের বিধান রয়েছে। এর পাশাপাশি নিরাপত্তা ও শনাক্তকরণ সহজ করতে মোটরসাইকেলের সম্মুখভাগেও নিবন্ধন নম্বর প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুটারের সামনের নম্বরপ্লেটের দৈর্ঘ্য ২০০ মিলিমিটার ও প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার হতে হবে। অন্য মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে প্লেটের দৈর্ঘ্য ২৮৫ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ৫০ মিলিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। অক্ষর ও সংখ্যার উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার রাখতে হবে।
নির্ধারিত মান অনুযায়ী নম্বরপ্লেট স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি হতে হবে। সাদা পটভূমির ওপর কালো রঙে বাংলা অক্ষর ও সংখ্যা ব্যবহার করতে হবে এবং কোনো ধরনের শোভাবর্ধক নকশা বা অতিরিক্ত অলংকরণ রাখা যাবে না।
প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেল মালিকদের নিজ উদ্যোগে নির্ধারিত মান অনুসরণ করে সামনের নম্বরপ্লেট সংযোজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সময়সীমার মধ্যে এ নির্দেশনা পালন না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়টি এখন বিবেচনাধীন রয়েছে।



