Logo
Logo
×

জাতীয়

তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা জাপানের প্রধানমন্ত্রীর

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম

তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা জাপানের প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। তিনি বাংলাদেশকে এমন এক বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করেছেন, যারা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো মূল্যবোধে বিশ্বাসী। একই সঙ্গে তিনি জাতীয় উন্নয়নে তারেক রহমান সরকারের প্রচেষ্টার প্রতি জোরালো সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের জাপান সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

এরপর নিজের অফিশিয়াল ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে জাপানের প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন মূল্যবোধের অংশীদার বন্ধু হিসেবে, প্রধানমন্ত্রী রহমানকে তার দায়িত্ব গ্রহণের জন্য ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানাতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।’ 

তাকাইচি বলেন, গণতান্ত্রিক সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বাংলাদেশ সরকারের জাতি গঠনমূলক উদ্যোগগুলোকে জাপান দৃঢ়ভাবে সমর্থন করবে। 

তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত রহমান প্রশাসনের জাতি গঠনমূলক প্রচেষ্টাকে জাপান জোরালো সমর্থন দেবে।’ 

এই বৈঠকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রতি জাপানের স্বীকৃতি এবং নতুন সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করার আগ্রহ ফুটে উঠেছে। 

তাকাইচি বলেন, ‘মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক’ অঞ্চল গড়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জাপানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তিনি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে সংযুক্তকারী বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি জানান, উভয় নেতা ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা ‘বিগ-বি’ উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এই উদ্যোগটি দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি মূল ভিত্তি। 

দুই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই উদ্যোগটিকে ‘শেয়ারিং প্রসপারিটি বিগ-বি’ নামক একটি নতুন কৌশলগত সহযোগিতা কাঠামোয় উন্নীত করা হবে। 

জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশকে ১৭ কোটি মানুষের একটি বিশাল ও তরুণ জনগোষ্ঠীর বাজার হিসেবে বর্ণনা করেন, যা জাপানের অর্থনীতির জন্য ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। 

তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়াকে সংযুক্তকারী বাংলাদেশ জাপানের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ 

তাদের আলোচনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তাকাইচি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করেছেন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই জাপান যে স্বীকৃতি দিয়েছিল, তার প্রশংসা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে জাপানের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং জাপানকে বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটি বিশেষ অংশীদার হিসেবে অভিহিত করেন। 

তাকাইচির ভাষ্যমতে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের প্রতি জাপানের অবিচল সমর্থনের কথা স্বীকার করেন।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই দেশ সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।

তিনি শীর্ষ সম্মেলনের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতির কথা উল্লেখ করে বলেন, এটি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। 

তিনি লেখেন, আমাদের দুই দেশের ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বের’ আওতায়—এবং আজ ঘোষিত ‘নেতৃবৃন্দের যৌথ বিবৃতি’র আলোকে—আমরা সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের উদ্যোগের মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করবো।

তাকাইচি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অভিন্ন সমৃদ্ধি এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ‘ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে আমি প্রধানমন্ত্রী রহমানের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করবো।’

এই দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলন বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদার করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। উভয় নেতাই অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতি তাদের অঙ্গীকারের ওপর জোর দিয়েছেন।


Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন