Logo
Logo
×

জাতীয়

মাঠ প্রশাসনে যোগ্যতার ঘাটতি, পদায়নে তদবিরের প্রভাব অভিযোগ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২২ এএম

মাঠ প্রশাসনে যোগ্যতার ঘাটতি, পদায়নে তদবিরের প্রভাব অভিযোগ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য বিনিময়ের সময় আচরণ নিয়ে বিতর্কের জেরে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় প্রত্যাহার করা হলো রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলীকে। এর আগে চলতি বছরের আগস্টে নাটোর, গাইবান্ধা ও রংপুরের জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) পাশাপাশি রাজশাহীর তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনারকেও প্রত্যাহার করেছিল সরকার। এসব সিদ্ধান্তের কোনোটিতেই প্রত্যাহারের কারণ প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের যোগ্যতা, কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা যাচাই এবং পদায়নে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত সুপারিশের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একাংশের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা, পেশাগত দক্ষতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং প্রভাবশালী মহলের সুপারিশও কখনো কখনো গুরুত্ব পায়। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অদক্ষতা বা রাজনৈতিক তদবিরের অভিযোগ উঠলেই তা প্রমাণিত সত্য হয়ে যায় না। প্রশ্ন হচ্ছে, মাঠ প্রশাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিয়োগের আগে কর্মকর্তাদের উপযুক্ততা যাচাইয়ে সরকার কতটা কার্যকর ব্যবস্থা অনুসরণ করছে? 

রাজশাহীর সর্বশেষ ঘটনা সেই প্রশ্নকে আরও সামনে এনেছে। কারণ, বিভাগীয় কমিশনারের পদ শুধু আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনের নয়; বিভাগের জেলা প্রশাসন, সরকারি দপ্তরগুলোর সমন্বয়, উন্নয়ন কার্যক্রমের তদারকি এবং বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক নেতৃত্ব দেওয়ার সঙ্গে এ পদ যুক্ত। এমন দায়িত্বে নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও পেশাদারত্বের পাশাপাশি আচরণবিধি সম্পর্কে ধারণা থাকাও জরুরি।

ভিডিও ছড়ানোর পরই প্রত্যাহার:  মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান। বিমানবন্দরে কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য বিনিময়ের একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাত মেলানোর পর রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলী তাঁকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁকে সরিয়ে দেন।এরপর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ইউসুফ আলীকে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। রাতেই তিনি রাজশাহী ছাড়েন। ১৯ আগস্ট ২০২৬ রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন তিনি। এর আগে তিনি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সদস্য-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় কথিত অপেশাদার আচরণের কারণেই তাঁকে সরানো হয়েছে। ফলে প্রশাসনিক আদেশে কারণের অনুপস্থিতি এবং সূত্রের বরাতে প্রকাশিত ব্যাখ্যার মধ্যে পার্থক্য রয়ে গেছে।

রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও সরকারি শিষ্টাচার মেনে চলা কর্মকর্তাদের দায়িত্বের অংশ। বিশেষ করে বিভাগীয় কমিশনারের মতো পদে থাকা কর্মকর্তার ক্ষেত্রে এ বিষয়ে সচেতনতা প্রত্যাশিত। কিন্তু একটি ভিডিওতে দৃশ্যমান আচরণ এবং একজন কর্মকর্তার সামগ্রিক কর্মদক্ষতা এক বিষয় নয়। অভিযোগের প্রকৃতি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য এবং সিদ্ধান্তের প্রশাসনিক ভিত্তি বিবেচনায় নিয়েই বিষয়টি মূল্যায়ন করা উচিত।

তবে নিয়োগের মাত্র দুই মাসের মাথায় এমন বিতর্কের পর প্রত্যাহারের ঘটনা নিয়োগপ্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নিয়োগের আগে কর্মকর্তার অভিজ্ঞতা, আচরণগত দক্ষতা ও দায়িত্ব পালনের উপযুক্ততা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

কয়েক মাসের মধ্যে একাধিক প্রত্যাহার:

রাজশাহীর বর্তমান ঘটনাটি মাঠ প্রশাসনে কর্মকর্তা প্রত্যাহারের প্রথম ঘটনা নয়। এর আগে ১৮ আগস্ট রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন, গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা এবং রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে প্রত্যাহার করে। একই রাতে রাজশাহীর তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার এ এন এম বজলুর রশীদকেও প্রত্যাহার করা হয়। পরবর্তী পদায়নের জন্য তাঁদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছিল। এসব প্রত্যাহারের কারণও সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি। 

একাধিক সচিব বলেন, জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের মতো পদে কর্মকর্তাদের এভাবে ঘন ঘন পরিবর্তন হলে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। নতুন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব বুঝে নিতে, স্থানীয় সমস্যা সম্পর্কে ধারণা অর্জন করতে এবং বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে সময় লাগে। চলমান উন্নয়ন প্রকল্প, ভূমি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জনসেবা-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

সরকারের দায়িত্ব শুধু প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মকর্তা পরিবর্তন করা নয়; কেন পরিবর্তন প্রয়োজন হলো, সেই সিদ্ধান্তে কী মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের সমস্যা কীভাবে এড়ানো যাবে, সেটিও নিশ্চিত করা।

নিয়োগে যোগ্যতার চেয়ে ব্যক্তিগত যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ:

বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের সক্ষমতা, সততা, নিরপেক্ষতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা এবং মাঠ প্রশাসনে কাজের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। কারণ, এসব পদে থাকা কর্মকর্তাদের একই সঙ্গে সরকারি নীতি বাস্তবায়ন, স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয় এবং নাগরিকদের নানা সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়।

প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একাংশের অভিযোগ, কখনো কখনো ব্যক্তিগত সখ্য, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুপারিশ কিংবা রাজনৈতিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। জোরালো তদবিরের কারণে যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। 

সূত্র মতে, এসব অভিযোগ উপেক্ষা করারও সুযোগ নেই। কারণ, নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবের ধারণা তৈরি হলে প্রশাসনের ভেতরে পেশাগত প্রতিযোগিতা ও নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যোগ্য কর্মকর্তারা যদি মনে করেন, দক্ষতা ও কর্মদক্ষতার চেয়ে পরিচয় বা সুপারিশ বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তাহলে তাঁদের মধ্যে হতাশা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের আট মাসের বেশি সময় পার হওয়ার পরও মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ ও প্রত্যাহার নিয়ে প্রশ্ন ওঠা সরকারের জন্যও বিব্রতকর। নতুন সরকার প্রশাসনকে কার্যকর করতে চাইলে শুধু কর্মকর্তা পরিবর্তন নয়, নিয়োগের মানদণ্ডেও দৃশ্যমান স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের নিয়োগ ও পদায়নপ্রক্রিয়া নিয়েও নানা বিতর্ক ছিল। বর্তমান সরকার সেই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা অনুসরণ করছে কি না, তা নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই করা প্রয়োজন। তবে যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ভিত্তি হওয়া উচিত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, সততা ও জনস্বার্থ-রাজনৈতিক আনুগত্য কিংবা ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা নয়।

সাবেক সচিব ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ এ কে এম আব্দুল আউয়াল মজুমদার বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও নিয়োগে তদবিরের প্রভাব ছিল এবং ওই সময়ে দেওয়া কিছু নিয়োগে ত্রুটি ও প্রশ্নবোধক দিক ছিল। ।

তিনি বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিয়োগ যেখান থেকেই দেওয়া হোক না কেন, একজন দক্ষ, অভিজ্ঞ, সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিতে হবে। দলীয় বিবেচনার বাইরে গিয়ে গ্রহণযোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিতে হবে। নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় বিবেচনার পরিবর্তে দক্ষতা ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া জরুরি। অতীতে কোনো কর্মকর্তা বঞ্চিত হয়ে থাকলে তাঁর যোগ্যতা মূল্যায়ন করা যেতে পারে; কিন্তু শুধু অতীতে বঞ্চিত হওয়ার কারণে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো যেমন যথেষ্ট যুক্তি নয়, তেমনি রাজনৈতিক পরিচয় বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে কাউকে অগ্রাধিকার দেওয়াও গ্রহণযোগ্য নয়।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, তিনি রেক্টর থাকাকালে সকল ক্যাডার কর্মকর্তাদের আচরণসহ বিধিবিধান সম্পর্কে সকল শিক্ষা দেওয়া হয়। কর্মজীবনে এসব কার্যকর করার জন্য বলা হয়। কেউ না করতে পারলে সেই কর্মকর্তার জন্য ব্যর্থতা । তবে যথাযথ না করতে পারলে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সত্য। এরা সিভিল সার্ভিসের অযোগ্য ।

প্রত্যাহারের আদেশে কারণ না থাকা কেন গুরুত্বপূর্ণ:

সরকারি প্রজ্ঞাপনে কোনো কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ না থাকলেই সিদ্ধান্তটি অনিয়মতান্ত্রিক-এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। প্রশাসনিক আদেশের ধরন, প্রযোজ্য বিধি এবং সরকারের বিবেচনাধীন বিষয় অনুযায়ী সব ক্ষেত্রে বিস্তারিত কারণ প্রকাশ করা সম্ভব নাও হতে পারে। তবে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাকে স্বল্প সময়ের মধ্যে সরিয়ে দেওয়া হলে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক

একাধিক দায়িত্বশীলদের অভিমত, জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিন্ন ও স্বচ্ছ মূল্যায়ন কাঠামো থাকা প্রয়োজন। পূর্ববর্তী কর্মমূল্যায়ন, মাঠ প্রশাসনে অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের দক্ষতা, সততা, আচরণবিধি সম্পর্কে জ্ঞান এবং সংকট মোকাবিলার সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়ার আগে প্রার্থীর পেশাগত যোগ্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি আচরণগত দক্ষতা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা মূল্যায়ন করা দরকার। নিয়মিত প্রশিক্ষণও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত সুপারিশের অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা থাকা উচিত। নিয়োগের সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছে, কোন মানদণ্ড বিবেচনায় এসেছে এবং প্রার্থীর উপযুক্ততা কীভাবে যাচাই করা হয়েছে-এসব বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক নথি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

কোন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ যাচাই ও কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের প্রক্রিয়া থাকতে হবে। একদিকে যেমন অদক্ষতা বা অসদাচরণের ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে, অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

সবশেষে, প্রশাসনে পদায়নের স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কর্মকর্তা পরিবর্তন করা সরকারের এখতিয়ার; তবে ঘন ঘন পরিবর্তন যেন মাঠপর্যায়ে জনসেবা ও সরকারি কার্যক্রমের গতি কমিয়ে না দেয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

প্রশ্ন শুধু একজন কর্মকর্তার নয়: রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনারকে প্রত্যাহারের ঘটনাটি একজন কর্মকর্তার আচরণগত বিতর্ক দিয়ে শুরু হলেও এর মধ্য দিয়ে মাঠ প্রশাসনের নিয়োগ ও পদায়নব্যবস্থা নিয়ে বৃহত্তর প্রশ্ন সামনে এসেছে। একজন কর্মকর্তা প্রটোকল ভঙ্গ করে থাকলে সেটি তাঁর পেশাগত দায়িত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়। কিন্তু নিয়োগের পরপরই এমন অভিযোগ সামনে এলে নিয়োগের আগে উপযুক্ততা যাচাইয়ের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা যুক্তিসংগত।

একইভাবে, কয়েক মাসের মধ্যে একাধিক জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারকে প্রত্যাহারের ঘটনা নিজে থেকেই অদক্ষতা কিংবা রাজনৈতিক তদবিরের প্রমাণ নয়। তবে এসব সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ, নিয়োগের মানদণ্ড এবং প্রশাসনিক মূল্যায়নের প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি।

সরকারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো, মাঠ প্রশাসনে এমন একটি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে কর্মকর্তা নির্বাচন করা হবে, দায়িত্ব পালনে পেশাদারত্ব নিশ্চিত করা হবে এবং ব্যর্থতার ক্ষেত্রে ন্যায়সংগত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি নির্ধারণ করা হবে।

কারণ, প্রশাসনের কার্যকারিতা শুধু কত দ্রুত একজন কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হলো, তার ওপর নির্ভর করে না। বরং গুরুত্বপূর্ণ পদে সঠিক ব্যক্তিকে নির্বাচন করা, তাঁকে পেশাগতভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে প্রমাণভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতাই একটি দক্ষ ও জনবান্ধব প্রশাসনের প্রকৃত পরিচয়। রাজশাহীর ঘটনা তাই সরকারের জন্য শুধু তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়; এটি নিয়োগ-পদায়নে যোগ্যতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন