১৬ বছরে সৌদিতে অন্তত ১৯ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম
২০১০ সালের পর থেকে সৌদি আরবে অন্তত ১৯ জন বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২০১০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ১৬ জন, ২০২৪ সালে একজন এবং ২০২৬ সালের অক্টোবরে দুইজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ইউরোপীয় সৌদি মানবাধিকার সংস্থার একটি যৌথ মানবাধিকার প্রতিবেদন এবং পরবর্তী সময়ের পর্যবেক্ষণ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
তবে এই পরিসংখ্যান থেকে সৌদি আরবে ওই পুরো সময়ে কতজন বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে— তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায় না। কারণ, প্রতিবেদনটিতে প্রতিটি বছরের তথ্য একত্র করে কোনো পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। রিপ্রিভ ও ইউরোপীয় সৌদি মানবাধিকার সংস্থার যৌথ প্রতিবেদনটি ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। যেখানে ২০১০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা পর্যালোচনা করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবে ১ হাজার ২৪৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তাদের মধ্যে ১৬ জন ছিলেন বাংলাদেশের নাগরিক।
এ ছাড়াও প্রতিবেদনে বিদেশি নাগরিকদের মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে অভিবাসী শ্রমিকদের ঝুঁকির বিষয়টিও রয়েছে। তাদের অনেকের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করা কঠিন হতে পারে। আরবি ভাষায় পরিচালিত আদালতের কার্যক্রম বোঝার ক্ষেত্রেও তাদের সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া তারা প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রেও বাধার মুখে পড়তে পারেন— এমনটা উল্লেখ করা হয়েছে।
২০১০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৯০ জন ছিলেন বিদেশি নাগরিক। অর্থাৎ, মোট মৃত্যুদণ্ডের প্রায় ৩৯ শতাংশই কার্যকর করা হয় বিদেশিদের ক্ষেত্রে। তাদের মধ্যে পাকিস্তান, ইয়েমেন, সিরিয়া, মিশর ও বাংলাদেশের নাগরিকেরা ছিলেন।
বাংলাদেশিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ঘটে ২০১১ সালের অক্টোবরে। ওই সময় ডাকাতির সময় একজন মিশরীয় নিরাপত্তারক্ষীকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ৮ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি আরব। রিয়াদে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এ ঘটনায় বিচারপ্রক্রিয়ার ন্যায্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সমালোচনাও করেছিল অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।



