শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর আইনগত প্রক্রিয়া চলছে: ভারতীয় হাইকমিশনার
যুগের চিন্তা ২৪ অনলাইন
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে একটি আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, বিষয়টি আদালত ও আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে বলা সম্ভব নয়।
শনিবার ‘বে অব বেঙ্গল কনভার্সেশন ২০২৬’-এর এক অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ মন্তব্য করেন।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একাধিকবার অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুটি একটি আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে এবং বর্তমানে তা চলমান আছে। একই প্রসঙ্গে ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্তদের প্রত্যর্পণের বিষয়েও তিনি একই ধরনের অবস্থানের কথা জানান।
শেখ হাসিনার ভারতে যাওয়ার প্রসঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, তাকে ভারতীয় সেনাবাহিনী বা বিমানবাহিনী ভারতে নিয়ে যায়নি। সে সময় বাংলাদেশে সৃষ্ট বিশেষ পরিস্থিতির মধ্যে তিনি ভারতে পৌঁছান। তখন তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং পরিস্থিতির বাস্তবতায় ভারতকে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল।
তিনি বলেন, কোনো প্রতিবেশী দেশ এমন পরিস্থিতিতে পড়লে বাস্তবতা বিবেচনা করেই পদক্ষেপ নিতে হয়। ভারত যদি তাকে অবতরণের অনুমতি না দিত, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারত।
বাংলাদেশের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং নিজেদের নিরাপত্তা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার দেশটির রয়েছে। ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো হস্তক্ষেপের আশঙ্কা তিনি দেখেন না বলেও মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কোনো তৃতীয় দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল নয়। উভয় দেশই নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করবে এবং পারস্পরিক সম্মান ও মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেবে।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে কেবল অর্থনৈতিক বা লেনদেনভিত্তিক সম্পর্ক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে গভীর সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক ও সামাজিক বন্ধন রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত দুই দেশের জাতীয় সংগীতের বিষয়টি সেই সম্পর্কের একটি অনন্য উদাহরণ।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, যা গণতান্ত্রিক সম্পর্কের স্বাভাবিক অংশ। তবে এসব সমস্যা সমাধানের সর্বোত্তম উপায় হলো সংলাপ, আলোচনা ও পারস্পরিক আস্থা।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণের মধ্যে বিদ্যমান আন্তরিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ভবিষ্যতেও ইতিবাচক ধারায় এগিয়ে যাবে।



