বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সহযোগিতা চাইলেন রাষ্ট্রপতি
যুগের চিন্তা ২৪ অনলাইন
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম
বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার বঙ্গভবনে বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে আসা চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।
সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় চীনের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনে চীনের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি তৈরি পোশাক, বৈদ্যুতিক যানবাহন, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর ও সৌরশক্তি খাতে চীনা বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডর এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডরের মতো আঞ্চলিক যোগাযোগ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোতে চীন ও অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
তিনি মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে দেশের শিল্পায়ন, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়নে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা আরও এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক জোরদারে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের অবদানেরও প্রশংসা করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, অতীতের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের সফর ও দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর ও শক্তিশালী করেছে।
চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।
এক হাজার শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ ও অর্থায়নের জন্য চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে জটিল ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসায় চীনের প্রযুক্তিগত ও বিশেষজ্ঞ সহযোগিতাও কামনা করেন। এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
সাক্ষাৎ শেষে রাষ্ট্রপতি বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন এবং বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের উন্নয়নে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন।



