সরবরাহ কমিয়ে ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা
যুগের চিন্তা ২৪ অনলাইন
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম
ভোজ্যতেলের বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। খুচরা পর্যায়ে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় এক ও দুই লিটারের বোতলজাত তেল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী ব্যবসায়ী চক্র সরবরাহ কমিয়ে নতুন করে দাম বাড়ানোর চাপ সৃষ্টি করছে।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সরকারের নির্ধারিত মূল্য বহাল থাকলেও খোলা সয়াবিন তেল অনেক জায়গায় প্রতি লিটার ১৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা নির্ধারিত দামের চেয়ে ১৫ টাকা বেশি। ফলে কোনো নতুন মূল্য সমন্বয়ের ঘোষণা ছাড়াই অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের।
রাজধানীর নয়াবাজার ও জিনজিরা বাজারের একাধিক মুদি দোকানে এক ও দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের ঘাটতি দেখা গেছে। অনেক দোকানি জানিয়েছেন, চাহিদার তুলনায় তারা ডিলারদের কাছ থেকে অনেক কম সরবরাহ পাচ্ছেন। তবে পাঁচ লিটারের বোতল তুলনামূলকভাবে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।
জিনজিরা কাঁচাবাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, প্রতিদিন যে পরিমাণ তেলের চাহিদা থাকে, তার সামান্য অংশ সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। তার দাবি, অতীতের মতো এবারও মূল্যবৃদ্ধির পরিবেশ তৈরি করতেই সরবরাহ কমানো হয়েছে।
কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, দেশের ভোজ্যতেলের বাজারের বড় অংশ কয়েকটি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে। তাদের অভিযোগ, অতিরিক্ত মুনাফার উদ্দেশ্যে সময় সময় সরবরাহ কমিয়ে বাজারে সংকট সৃষ্টি করা হয় এবং পরে মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি করা হয়। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলেও তিনি মনে করেন।
ব্যবসায়ী সংগঠন সূত্রের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। তাদের মতে, বর্তমান দামে তেল বিক্রি করতে গিয়ে কোম্পানিগুলো বাড়তি ব্যয়ের চাপের মুখে রয়েছে।
অন্যদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে বাজারে ভোজ্যতেলের কোনো প্রকৃত সংকট নেই। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান কৃত্রিমভাবে সরবরাহ কমিয়ে মূল্যবৃদ্ধির চেষ্টা করে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর সরকার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৮০ টাকা নির্ধারণ করে। তবে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশিত হারে দাম না বাড়ানোয় নতুন করে বাজারে অস্থিরতা তৈরির অভিযোগ উঠেছে।



