সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে দুবাই পুলিশ। প্রত্যর্পণের আইনি ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বেশ কিছু নথিপত্র ও তথ্য-উপাত্ত চেয়ে ইন্টারপোলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি। বর্তমানে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টারপোল শাখার সহযোগিতায় সে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে পুলিশ ও দুদক। সোমবার দুবাইয়ের দিক থেকে বাংলাদেশের চিঠির উত্তর পাঠানোর বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র।
জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (অপারেশন্স) রেজাউল করিম বলেন, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার সময়সীমা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। দুবাই পুলিশের কাছে আমরা যে চিঠি দিয়েছিলাম, সেটির জবাবে তারা কিছু তথ্য-উপাত্ত চেয়েছে। সেগুলো সাধারণ নথিপত্র বা ডকুমেন্ট। দুদক থেকে সেগুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে। দ্রুতই সেগুলো দুবাই পুলিশকে সরবরাহ করা হবে। প্রক্রিয়াটি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে।
সাবেক আইজিপিকে কবে নাগাদ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে-এমন প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি রেজাউল করিম বলেন, এটি এখনই নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। তবে ওরা (দুবাই পুলিশ) আমাদের সাথে পজিটিভলি যোগাযোগ করছে। দুবাই পুলিশের চাওয়া তথ্যাবলি পূরণ করে চিঠি পাঠাতে কতদিন সময় লাগতে পারে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে ডিআইজি বলেন, এটি দুদকের এখতিয়ারভুক্ত। তবে আমার কাছে মনে হয়, বেশি সময় লাগবে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এর আগে জাতীয় সংসদে দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে আটক করার কথা জানিয়েছিলেন। এর আগে দুদকের প্রস্তুত করা প্রায় ১৪৪ পৃষ্ঠার নথি আরবিতে অনুবাদ করে কূটনৈতিক মাধ্যমে দুবাইয়ে পাঠানো হয়। সেখানে গ্রেফতারি পরোয়ানা, মামলার বিবরণ এবং প্রত্যর্পণের প্রয়োজনীয় আইনি নথি সংযুক্ত ছিল। প্রায় এক মাস পর সেই আবেদনের জবাব দিয়েছে দুবাই পুলিশ। বর্তমানে বেনজীর দুবাইয়ের একটি কারাগারে আটক রয়েছেন বলে জানা গেছে।



