Logo
Logo
×

জাতীয়

সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার দেড় হাজার বিলাসবহুল পণ্য

Icon

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম

সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার দেড় হাজার বিলাসবহুল পণ্য

পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আলোচিত সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। ফাইল ছবি

পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আলোচিত সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের গুলশানের দুই ফ্ল্যাটে দুই দিনব্যাপী অভিযান শেষ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিশেষ টিম।

গুলশানের ৬৬ নম্বর রোডে নর্থওয়েস্ট বি ব্লকের ১১ নম্বর প্লটের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মোট ২৬৯ ধরনের পণ্য সামগ্রী উদ্ধার করেছে দুদকের টিম। সংখ্যা হিসাবে যার পরিমাণ দেড় হাজার ছাড়িয়ে যাবে। ফ্ল্যাট এ-৭ থেকে প্রায় ১ হাজার ১৩৫টি ও ফ্ল্যাট বি-৭ থেকে প্রায় ৪০০টি পণ্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) দুদকের প্রাধান কার্যালয়ে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি টিম অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছে। আদালতের নির্দেশনা মেনে গতকাল (রোববার) ও আজ (সোমবার) ইনভেন্টরি কাজ করেছে।

অভিযানে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ফ্ল্যাটে প্রবেশ ও ইনভেন্টরি কার্যক্রমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ২৬৯ আইটেমের পণ্য পাওয়া গেছে।

উদ্ধারকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৩০০টির বেশি কোট, ৫৩২টির বেশি টাই, ৮টি ঘড়ির বক্স (এর মধ্যে রোলেক্সের ৪টি), প্রায় ১০০টি কামিজ, মুক্তার (পার্ল) গয়না, ঝাড়বাতি, বেড, সোফা, এসি, সিলিং ফ্যান, ট্রেড মিল, ফ্রিজ, সুটকেস, চেয়ার ও টেবিল ইত্যাদি। বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া রোলেক্স ঘড়ির ক্রয় রসিদ অনুযায়ী, প্রতিটি ঘড়ির দাম হতে পারে ১৪ হাজার থেকে ১৭ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার।

ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধানের শুরুতে দুদক, সিআইডি ও এনবিআরের সমন্বয়ে সাত সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছিল। টিম লিডারের বদলিজনিত কারণে টিম পুনর্গঠন করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচারক মশিউর রহমানের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের টিম অনুসন্ধান ও তদন্ত কাজ পরিচালনা করছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক মামলা করেছে দুদক। মামলাগুলোতে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রী ও ইউসিবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামানকে আসামি করা হয়েছে। যার সঙ্গে তার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও ইউনাইটেড কমার্সিয়াল ব্যাংকের অর্ধশত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আসামি করা হয়েছে।

গত ২ জুলাই আদালতের আদেশ দেওয়ার পর সাইফুজ্জামানের গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটের সঠিক নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, তদারকি এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিয়ন্ত্রণে নেয় দুদক। আদালতের চিঠিতে বলা হয়, সাবেক ভূমিমন্ত্রী এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামীয় সম্পদ ঢাকার গুলশানের রোড নম্বর-৬৬, ব্লক-নর্থওয়েস্ট (বি), প্লট নম্বর-১১, ফ্ল্যাট নম্বর-এ-৭ এর ৩ হাজার ৭৪৭ বর্গফুট আয়তন বিশিষ্ট ফ্ল্যাট এবং গুলশানের রোড নম্বর-৬৬, ব্লক-নর্থওয়েস্ট (বি), প্লট নম্বর-১১, ফ্ল্যাট নম্বর-বি-৭ এর ৩ হাজার ৮৩২ বর্গফুট আয়তন বিশিষ্ট ফ্ল্যাটের সঠিক নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, তদারকি এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রিসিভার হিসেবে দুদক পরিচালককে (সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ফ্ল্যাটে রিসিভারের প্রবেশ এবং মালামালের ইনভেন্টরি করার সময় দায়িত্ব পালনের জন্য গুলশান রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নিলয় রহমানকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে এ বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি সাইফুজ্জামান চৌধুরীর (জাবেদ) নামে যুক্তরাজ্যে থাকা ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট ক্রোকের নির্দেশ দেন আদালত। আর ১৩ জানুয়ারি সাইফুজ্জামানের আরব আমিরাতসহ আট দেশে থাকা বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ দেন আদালত। এ ছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রে তার নামে থাকা দুটি কোম্পানিতে করা বিনিয়োগ অবরুদ্ধেরও আদেশ দেওয়া হয়। এসব সম্পদ ও বিনিয়োগের মোট পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৩২০ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত একই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন