জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় মোজাফফরের বিচার সেনা আইনে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেফতার সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের বিচার সেনা আইনে হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, একই অপরাধে একজন ব্যক্তির দুই আইনে বিচার হতে পারে না। এ কারণে তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে তার বিচার সম্পন্ন হবে।
সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদরদপ্তর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যান্য আসামিদের বিচার সামরিক আদালতে হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে রায় দেওয়া হয়েছে। মোজাফফর দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় তার বিচার হয়নি। সম্প্রতি গ্রেফতারের পর সেনা আইনে বিচারের জন্য তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, আগেই যেসব আসামি দণ্ডিত বা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাদের মামলার রায়ে মোজাফফরের বিষয়ে কোনো পর্যবেক্ষণ থাকলে তা জেনারেল কোর্ট মার্শাল বিবেচনায় নেবে। সিভিল কোর্টে নতুন করে তাকে একই মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা কতটা আইনসম্মত হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করবে।
মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের পরিকল্পনা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় আরাকান আর্মি, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশে পড়ছে। মাদক পাচার, গোলাগুলি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার ১০৯ কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রস্তাব বিবেচনা করছে।
অবৈধ পুশইন ঠেকাতে সক্ষম বাংলাদেশ
ভারত থেকে কথিত ‘পুশইন’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ কাউকে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করতে দেয়নি। বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় এসব প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। যদি কেউ প্রকৃত বাংলাদেশি নাগরিক হন, ভারত সরকারকে কূটনৈতিকভাবে তালিকা দিতে হবে। জাতীয়তা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজিবিকে আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত
বিজিবি সদরদপ্তর পরিদর্শন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র সংগ্রহসহ বেশ কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাদক পাচার রোধে বিজিবির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তাদের সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে।
তিনি জানান, বিজিবির প্রশাসনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি, চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক বিষয় দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলা ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও বিজিবির সক্ষমতা বাড়ানো হবে।



