ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় কৃষি কর্মকর্তার স্ত্রী-স্বজনদের নাম
কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:০২ পিএম
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারের মানবিক সহায়তার তালিকায় এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার স্ত্রী ও নিকটাত্মীয়দের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় গত রোববার পোগলা ইউনিয়নের পাবই গ্রামের বঞ্চিত কৃষকেরা নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এতে মো. নুরে আলমসহ ২৪ জনের স্বাক্ষর রয়েছে।
লিখিত অভিযোগ, স্থানীয় কৃষক ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কলমাকান্দার আটটি ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত ৬ হাজার ৩২০ জন কৃষকের মধ্যে সরকারি প্রণোদনা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে পোগলা ইউনিয়নে ৬৮৭ জনের নাম রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, ওই ইউনিয়নের ১ নম্বর থেকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রামনাথপুর ও সুনই ব্লকের তখনকার দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহিনুর আলম ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নাম বাদ দিয়ে নিজের স্ত্রী, পরিবারের লোকজন ও নিকট আত্মীয়স্বজনদের সহায়তার তালিকা অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তার এ কাজে সহায়তা করেছেন ৬ নম্বর থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তখনকার দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. নূর খান।
গত ১৭ জুন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির সহায়তা একসঙ্গে বিতরণ করা হয়। এতে প্রত্যেককে ৬ হাজার টাকা নগদ ও ৩০ কেজি চাল দেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই তালিকায় পাবই গ্রামের বাসিন্দা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহিনুর আলমের স্ত্রী শাহিনুর আক্তারের নাম রয়েছে। তিনি তালিকায় স্বামীর নামের পরিবর্তে বাবার নাম আবু সিদ্দিক ব্যবহার করেছেন। এছাড়া শাহিনুর আলমের বড় ভাই রফিকুল আলমের স্ত্রী তৌহিদা খাতুনের নাম আছে। একই সঙ্গে পাবই গ্রামের তার নিকটাত্মীয় অন্তত ১৫ জনের নাম রয়েছে।
অভিযোগকারী নূরে আলম বলেন, শুধু এ প্রণোদনার ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি করা হয়নি। অতীতেও ওই কর্মকর্তা স্বজন প্রীতি করে তাদের আত্মীয়স্বজনের নাম অন্তর্ভুক্তি করার কারণে বিনামূল্যে সার, বীজ ও বিভিন্ন ধরনের কৃষি প্রণোদনার তালিকা থেকেও প্রকৃত কৃষকেরা বঞ্চিত হন। এ কারণে অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহিনুর আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। আর মো. নুর খানের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
পোগলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সবুজ মিয়া বলেন, মো. শাহিনুর আলম কৃষি প্রণোদনার তালিকাতে তার স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। তার কাছ থেকে এমন আচরণ আমরা প্রত্যাশা করি না।
পোগলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, তদন্তে যদি কোনো অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক যেন সরকারি সহায়তা পান, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, তালিকায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার স্ত্রীর নাম থাকার বিষয়টি জেনে ওই নামটি বাদ দিয়ে সেখানে প্রকৃত একজন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তার কাছ থেকে বরাদ্দের টাকা ফেরত এনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে প্রদান করা হবে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে শাহিনুর আলমকে লেঙ্গুড়া ইউনিয়নে এবং নূর খানকে বড়খাপন ইউনিয়নে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের শোকজ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম মিকাইল ইসলাম বলেন, অভিযোগ তদন্তে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



