‘রাতের ভোট’ বিতর্কে ৩৩ পুলিশ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বহুল আলোচিত ‘রাতের ভোট’ বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পরিচিত ৩৩ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় সরকারি সিদ্ধান্তে তাদের অবসর কার্যকর করা হয়েছে।
২০১৮ সালের নির্বাচনে বিভিন্ন জেলায় পুলিশ সুপার (এসপি) ও মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভোটের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ, বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন এবং পরবর্তী সময়ে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। নির্বাচনের পর তারা পদোন্নতি ও নানা সুবিধা পান।
অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন—সাইফুল ইসলাম (বরিশাল), মিরাজ উদ্দিন (নরসিংদী), শাহ মিজান শাফিউর (ঢাকা জেলা), মোস্তাক আহমেদ খান (গুলশান ডিসি), জিহাদুল কবির (চাঁদপুর), মঈনুল হক (যশোর), ইলয়াছ শরীফ (নোয়াখালী), জাকির হোসেন (ফরিদপুর), শাহ আবিদ হোসেন (ময়মনসিংহ), মনিরুজ্জামান (সিলেট), বরকত উল্লাহ খান (সুনামগঞ্জ), আনোয়ার হোসেন (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), সঞ্জয় কুমার (টাঙ্গাইল), সাইদুর রহমান খান (গোপালগঞ্জ), শামসুন্নাহার (গাজীপুর), খান মুহাম্মদ রেজোয়ান (মাগুরা), মাশরুকুর রহমান খালেদ (কিশোরগঞ্জ) প্রমুখ।
সবচেয়ে আলোচিত ছিলেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলাম। ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এই কর্মকর্তা বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আলোচিত ছিলেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের প্রমাণও উঠে এসেছে।
অতিরিক্ত ডিআইজি আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন এবং ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কঠোর বলপ্রয়োগের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে শ্যামল কুমার নাথ কক্সবাজারে দায়িত্ব পালনকালে ইয়াবা চোরাচালানে পুলিশ সদস্যদের সম্পৃক্ততার ঘটনায় বিতর্কিত হন।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন জানিয়েছেন, অবসরের বিষয়টি সম্পূর্ণ সরকারের সিদ্ধান্তে হয়েছে।



