Logo
Logo
×

জাতীয়

বিপৎসীমা অতিক্রম করবে তিস্তা, ১২ জেলায় বন্যার আভাস

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম

বিপৎসীমা অতিক্রম করবে তিস্তা, ১২ জেলায় বন্যার আভাস

আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তাসহ দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এতে তিস্তা নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং ১২ জেলার বিভিন্ন এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহানের সই করা বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পরিস্থিতি বিষয়ক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, পর্যবেক্ষণাধীন কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। মোট ১২৭টি পানি সমতল পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে ৩৮টিতে পানি বেড়েছে, ৮৬টিতে কমেছে এবং তিনটিতে অপরিবর্তিত রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে অতি ভারী এবং সিলেট ও বরিশাল বিভাগে, পাশাপাশি ভারতের মেঘালয় ও ত্রিপুরায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী চার দিন চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

এদিকে ভারতের উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে দুর্বল হয়ে বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ২৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে চট্টগ্রামে। এছাড়া চট্টগ্রামের নারায়ণহাটে ১৬৫ মিলিমিটার, কক্সবাজারের টেকনাফে ১৫৮ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ১২৯ মিলিমিটার, চট্টগ্রামের রামগড়ে ১০৫ মিলিমিটার, বান্দরবানে ১০২ মিলিমিটার, সুনামগঞ্জের মহেশখোলায় ১০১ মিলিমিটার, চট্টগ্রামের পাঁচপুকুরিয়ায় ৯৫ মিলিমিটার, বান্দরবানের লামায় ৯৩ মিলিমিটার, ফেনীর পরশুরামে ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে ভারতের মেঘালয়ের মাওকিরওয়াতে ১৫৩ মিলিমিটার, আর কে এম সোহরায় ১৪১ মিলিমিটার, চেরাপুঞ্জিতে ১৩৩ মিলিমিটার এবং দক্ষিণ ত্রিপুরার সাবরামে ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা বাংলাদেশের উজানের নদীগুলোর পানি বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গোমতী, মুহুরি, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এতে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কিছু স্থানে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নদীসংলগ্ন নিচু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কিছু স্থানে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

এছাড়া রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আগামী তিন দিনে দ্রুত বাড়তে পারে। এর মধ্যে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে ধরলা ও দুধকুমার নদী লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার কিছু স্থানে সতর্ক সীমায় পৌঁছাতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি আগামী তিন দিন কমে পরবর্তী দুই দিন বাড়তে পারে। গঙ্গা নদীর পানি আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থেকে পরে বাড়তে পারে। তবে পদ্মা নদীর পানি আগামী পাঁচ দিন কমতে পারে। সবগুলো প্রধান নদীই এ সময়ে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন