ব্যাংক আইনের তোয়াক্কা না করে স্বজনপ্রীতি, বিতর্কে কমার্স ব্যাংক চেয়ারম্যান আতাউর
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৪২ এএম
ছবি: বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান
বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংক আইনের তোয়াক্কা না করে তিনি নিজের পুত্রবধূ ও দুই ভাতিজাকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা। এ ক্ষেত্রে বয়স ও অভিজ্ঞতা-সংক্রান্ত নীতিমালা মানা হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, চেয়ারম্যানের প্রভাব খাটিয়ে ভাতিজা মো. আরিফুল ইসলামকে ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পুত্রবধূ তানজিনা সুলতানা ও আরেক ভাতিজা সাইফুল ইসলামকে যথাক্রমে অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার ও সিনিয়র অফিসার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়োগে কোনো উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি এবং প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
ব্যাংক সূত্র জানায়, তানজিনা সুলতানা দিলকুশা শাখায় কর্মরত থাকলেও পদোন্নতি, বদলি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তার প্রভাব রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, গত দেড় মাসে প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তার বদলি ও পদায়নে তার ভূমিকা ছিল। এর ফলে ব্যাংকের অভ্যন্তরে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে।
ইতোমধ্যে এসভিপি, এভিপি, এফএভিপি ও এসপিও পদে থাকা চার কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে কথা বলায় তারা চাকরিচ্যুত হয়েছেন।
এছাড়া সম্প্রতি একযোগে ৩১৮ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার ঘটনাও ব্যাংকের ভেতরে প্রশ্ন তুলেছে। প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও নতুন নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ব্যাংকের এমডি মো. ওবায়দুল হক বলেন, “চেয়ারম্যানের ছেলের স্ত্রী ও ভাতিজাদের নিয়োগ আমার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই হয়েছে। তাই বিষয়টি সম্পর্কে আমি পুরোপুরি অবহিত নই।”
অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, চেয়ারম্যান ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।



