Logo
Logo
×

জাতীয়

বন্যা নিয়ে সতর্ক বার্তা

Icon

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম

বন্যা নিয়ে সতর্ক বার্তা

দেশের অভ্যন্তরে এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়ছে। কুড়িগ্রামের দুধকুমার নদী এরইমধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া তিস্তা, সুরমা, কুশিয়ারা ও যাদুকাটাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদী বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক সীমায় পৌঁছেছে। আগামী কয়েক দিন ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে দেশের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি বা অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রকাশিত সর্বশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টার নদীর পানি পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরী স্টেশনে দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একদিনে সেখানে নদের পানি ৯৩ সেন্টিমিটার বেড়েছে। একই সময়ে নীলফামারীর ডালিয়া, রংপুরের কাউনিয়া ও লালমনিরহাটের তারাপুরে তিস্তা নদী, সিলেটের কানাইঘাটে সুরমা নদী, ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদী এবং সুনামগঞ্জের লরেরগড়ে যাদুকাটা নদী সতর্ক সীমায় রয়েছে। বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পর্যবেক্ষণাধীন স্টেশনগুলোর মধ্যে একটি স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে রংপুর বিভাগে ভারি থেকে অতিভারি এবং সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ সময়ে সর্বোচ্চ ১৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরী স্টেশনে। এ ছাড়া রংপুরের বদরগঞ্জে ৯৩ মিলিমিটার, কুড়িগ্রামে ৮২ মিলিমিটার, চিলমারী ও নীলফামারীর ডালিয়ায় ৮০ মিলিমিটার এবং সুনামগঞ্জের লরেরগড়ে ৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

একই সময়ে বাংলাদেশের উজান অঞ্চলে ভারতের অরুণাচল প্রদেশের পাসিঘাটে ২০৩ মিলিমিটার এবং আসামের ডিব্রুগড়ে ১০৫ মিলিমিটার অতিভারি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই দিন দেশের রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, অরুণাচল ও মেঘালয়ে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। পরবর্তী তিন দিন মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

এর প্রভাবে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে। ফলে আগামী তৃতীয় থেকে পঞ্চম দিন, অর্থাৎ ২ থেকে ৪ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যান্য প্রধান অববাহিকার মধ্যে গঙ্গা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কিছুটা কমলেও আগামী দুই দিন পর আবার বাড়তে পারে। একই সময়ে পদ্মার পানি আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি পেলেও দুটি নদীই বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সুরমা নদীর পানি বাড়লেও কুশিয়ারার পানি কিছুটা কমেছে। আগামী তিন দিন এ পরিস্থিতি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে আগামী ৭২ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জে নদীগুলো সতর্কসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে পারে এবং নিম্নাঞ্চলের প্লাবন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

বিভাগভিত্তিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর বিভাগের তিস্তা, দুধকুমার ও ধরলা নদীর পানি আগামী তিন দিনে আরও বাড়তে পারে। এর মধ্যে আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা এবং ৪৮ ঘণ্টায় ধরলা নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। একইসঙ্গে কুড়িগ্রামে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে সারিগোয়াইন ও যাদুকাটা নদীর পানি বাড়লেও ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদীর পানি কমেছে। তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

এদিকে ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের প্রধান নদীগুলোর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঢাকার আশপাশের নদীগুলোতে আগামী তিন দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির কারণে পানি কিছুটা বাড়তে পারে, তবে তা বিপৎসীমা অতিক্রম করবে না। অন্যদিকে চট্টগ্রাম ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গোমতী, মুহুরি, সেলোনিয়া, ফেনী ও সাঙ্গু নদীর পানিও আগামী তিন দিনে বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন