জুলাই থেকে নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকরের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। এ জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা একযোগে সব শ্রেণির কর্মচারী পাবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিশেষ করে পেনশনভোগী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী এবং স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রে সরকার আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানায়নি।
ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নবম পে স্কেল এক ধাপে নয়, বরং পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে সংশোধিত মূল বেতনের অর্ধেক কার্যকর হতে পারে, পরে দ্বিতীয় ধাপে বাকি অংশ এবং ভাতা সমন্বয় করা হবে। ফলে জুলাইয়ে কার্যকর হলেও বর্ধিত বেতন হাতে পেতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। কর্মকর্তাদের মতে, অক্টোবরের আগে নতুন হারে বেতন পরিশোধ শুরু নাও হতে পারে।
সম্ভাব্য সুবিধাভোগী
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী : প্রথম ধাপে তারা সুবিধা পাবেন।
এলপিআরে থাকা কর্মকর্তা : নতুন কাঠামোর আওতায় আনার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনায় রয়েছে।
পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক : সুবিধা সম্প্রসারণের আলোচনা চলছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান : সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় রয়েছেন, কারণ তাদের নিজস্ব চাকরি বিধিমালা কার্যকর রয়েছে।
বিকল্প প্রস্তাব
সরকার একাধিক বিকল্প নিয়ে কাজ করছে।
প্রথম ধাপে মূল বেতন ৫০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব।
আরেক প্রস্তাবে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডে ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে ৬০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির কথা রয়েছে।
নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য শতভাগ মূল বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাবও আলোচনায় আছে।
বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনী
সচিব কমিটির বৈঠকে জনপ্রশাসন-সংক্রান্ত সুপারিশে নীতিগত সিদ্ধান্ত হলেও বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনী সংক্রান্ত সুপারিশ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে আলাদা বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।



