চট্টগ্রাম বন্দরে রেকর্ড কন্টেইনার হ্যান্ডলিং, ‘গ্রিন ও স্মার্ট পোর্ট’ পরিকল্পনা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তারা ৩২ লাখ ১৬ হাজার ৩৭টি টিইইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করেছে, যা গত ৪৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সময়ে ১৩.০৭ কোটি মেট্রিক টন কার্গো এবং ৪ হাজার ৭৭টি জাহাজ হ্যান্ডলিং সম্পন্ন হয়েছে। গড়ে প্রায় ৪.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর ৫ হাজার ৪৬০ কোটি ১৮ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭.৫৫% বেশি। কর-পূর্ব উদ্বৃত্ত মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৪২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। সরকারি কোষাগারে ভ্যাট, ট্যাক্স ও এনটিআর বাবদ রেকর্ড ১ হাজার ৮০৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে জানানো হয়, বন্দরের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। টিওএস, ই-গেইট ও ই-পেমেন্ট সিস্টেম চালুর ফলে জাহাজের গড় টার্ন-অ্যারাউন্ড টাইম ২.১২ দিনে নেমে এসেছে। ‘পেপারলেস পোর্ট’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সিপিএ স্কাই ও পোর্ট সিঙ্গেল উইনডো চালু করা হয়েছে। ইয়ার্ড সক্ষমতা ৫৩ হাজার টিইইউএস থেকে ৫৯ হাজার টিইইউএস-এ উন্নীত করা হয়েছে।
চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধানে কর্ণফুলী চ্যানেলের ড্রেজিং কাজে সর্বনিম্ন দর নিশ্চিত হওয়ায় সরকারের প্রায় ৬০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। বে-টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে চলছে। বে-টার্মিনাল প্রকল্পে ঋণের সুদের হার কমিয়ে প্রায় ৬ হাজার ৬১১ কোটি টাকা সাশ্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বন্দর নিরাপত্তা ও আইএসপিএস কমপ্লায়েন্স বজায় রাখায় ইউএস কোস্ট গার্ডের সর্বশেষ অডিটে চট্টগ্রাম বন্দর ‘জিরো অবজারভেশন’ অর্জন করেছে। করাচি-চট্টগ্রাম সরাসরি কন্টেইনার রুট চালু হয়েছে এবং ইউরোপ ও আমেরিকার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরকে বিশ্বমানের ‘গ্রিন ও স্মার্ট পোর্ট’-এ রূপান্তরের লক্ষ্যে আধুনিক রোবোটিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ২০৪০ সালের মধ্যে বন্দরের সক্ষমতা চারগুণ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা চট্টগ্রাম বন্দরকে দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান লজিস্টিক হাবে পরিণত করবে।



