২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট উত্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনে তিনি ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন। এটি বিএনপি সরকারের ১৭তম এবং তার প্রথম বাজেট।
সরকার ঘোষণা করেছে, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ ১০টি অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফেরানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারের ১০টি অগ্রাধিকার খাত হলো—
সবার জন্য উন্নয়ন: বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা: দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা এবং সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ।
সামাজিক সুরক্ষা: জীবনচক্রভিত্তিক কর্মসূচির মাধ্যমে কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।
বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান: পরিকল্পিত শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও কৃষিকে কৌশলগত খাত হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া।
ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ: নিয়ন্ত্রণ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে স্বচ্ছ ব্যবসা পরিবেশ নিশ্চিতকরণ।
আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা: ব্যাংক ও পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা।
জ্বালানি নিরাপত্তা: নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
তথ্যপ্রযুক্তি খাত: বাংলাদেশকে প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর এবং আইসিটি রপ্তানিকারক রাষ্ট্রে পরিণত করা।
পরিবেশ ও পানিসম্পদ: জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, বনায়ন সম্প্রসারণ ও নদী ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন।
প্রশাসনিক সংস্কার: মেধাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা।



