তিন দিনের সরকারি সফরে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। রোববার (৭ জুন) সকালে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। সফর শেষে আগামী ৯ জুন দেশে ফেরার কথা রয়েছে তার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রায় সাত বছর পর বাংলাদেশের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এটি প্রথম মস্কো সফর। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে এ সফরে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষ করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প, মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা, বাণিজ্য এবং জ্বালানি সহযোগিতা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।
মস্কোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সফরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট চালুর অগ্রগতি এবং প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি রাশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ, শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা এবং বাংলাদেশি পণ্যের জন্য রুশ বাজার সম্প্রসারণের বিষয়ও গুরুত্ব পাবে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর অন্যতম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে রাশিয়া। তবে ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রকল্পের অর্থায়ন ও ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। রাষ্ট্রদূত নজরুল ইসলাম বলেছেন, সে সংকট ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করেছে এবং দুই দেশ এ বিষয়ে সমাধানের পথে এগোচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান রুশ পার্লামেন্টের স্পিকারসহ দেশটির সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতবিনিময় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরকারের একাধিক সূত্রের ভাষ্য, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ও পরিকল্পনা সম্পর্কেও রুশ পক্ষকে অবহিত করতে পারে বাংলাদেশ। তবে সফরের আনুষ্ঠানিক এজেন্ডায় মূল গুরুত্ব পাচ্ছে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতি দেয় রাশিয়া। ওই বিবৃতিতে তাকে একজন দক্ষ, বাস্তববাদী রাজনীতিক ও কূটনীতিক হিসেবে অভিহিত করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রেক্ষাপটে তার মস্কো সফর ঢাকা-মস্কো সম্পর্ককে নতুন গতি দিতে পারে।



