Logo
Logo
×

জাতীয়

কুরবানির চামড়া সংরক্ষণে সরকারের একাধিক উদ্যোগ

Icon

বাসস

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ১১:২৭ এএম

কুরবানির চামড়া সংরক্ষণে সরকারের একাধিক উদ্যোগ

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কুরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণে সারাদেশে মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে বিনামূল্যে লবণ বিতরণ, চামড়া ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধা এবং বিসিক চামড়া শিল্পনগরীতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চামড়া শিল্পের চলমান সংকট মোকাবিলা এবং মানসম্মত কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের লক্ষ্যে গঠিত টাস্কফোর্স এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

চামড়া শিল্পখাতের উন্নয়নে সুপারিশ প্রদান ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন সংক্রান্ত টাস্কফোর্স সূত্রে জানা গেছে, কুরবানির পশুর চামড়া যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য সরকারি অর্থায়নে সারাদেশে মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে বিনামূল্যে লবণ পৌঁছে দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার লবণ ক্রয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

একই সঙ্গে কুরবানির চামড়া সঠিকভাবে ছাড়ানো ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়াতে মাংস শ্রমিক ও মসজিদের ইমামদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের লক্ষ্য-চামড়া নষ্ট হওয়া কমিয়ে মান উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

গত বছর ৯ হাজার ৩৩০টি মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের জন্য বরাদ্দ ২০ কোটি টাকার মধ্যে ১১ হাজার ৫৭১ মেট্রিক টন লবণ ক্রয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। জেলা পর্যায়ের প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত ৮ হাজার ৯৬ মেট্রিক টন লবণ বিতরণ করা হয়। ফলে প্রায় ১৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২৩টি চামড়া সফলভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। এর মধ্যে গরু ও মহিষ প্রায় ৫৭ লাখ, ছাগল ও ভেড়া ৬৬ লাখ এবং অন্যান্য পশু প্রায় সাড়ে ৫ হাজার। এ বছর কুরবানির চাহিদা এক কোটির কিছু বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রাথমিক হিসাবে চামড়া সংরক্ষণে ৮০ থেকে ৮৫ হাজার মেট্রিক টন লবণের প্রয়োজন হতে পারে। গত বছর এ খাতে প্রায় ৭০ হাজার মেট্রিক টন লবণ ব্যবহৃত হয়েছিল।

টাস্কফোর্স জানিয়েছে, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়সহ পশুর হাট এবং স্থানীয় দোকানগুলোতে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি সারাদেশের লবণ ডিলার ও মিল মালিকদের তালিকাও সরবরাহ করা হবে।

এ ছাড়া চামড়া সংগ্রহ ও বাজার ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করতে দেশব্যাপী চামড়া আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের একটি খসড়া ডাটাবেজও প্রস্তুত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তাদের নিবন্ধনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে, কুরবানির মৌসুমে চামড়া কেনা ও সংরক্ষণের জন্য ব্যবসায়ীদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ঋণ সুবিধা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত ৫ মে জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পুনঃতফসিল বা খেলাপি ঋণ থাকা চামড়া ব্যবসায়ীরাও আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত খেলাপি অবস্থায় থেকেই নতুন মূলধনী ঋণ নিতে পারবেন। এ ছাড়া ব্যাংকগুলোকে চলতি বছর চামড়া খাতে ঋণ বিতরণের নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে, যা কোনোভাবেই ২০২৫ সালের চেয়ে কম হতে পারবে না।

চামড়া শিল্পের উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে বিসিক চামড়া শিল্পনগরী, ঢাকায় ঈদের পরবর্তী তিন মাস নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ধারিত ভোল্টেজে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পবিস-৩, আরইবি এবং পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সিইটিপিতে ডেডিকেটেড এক্সপ্রেস ফিডার লাইনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রাখা, শিল্পনগরী ও সিইটিপিতে জরুরি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু রাখা এবং সাভার গ্রিড থেকে বিশেষ লোড বরাদ্দের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন