রেমিট্যান্সের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন জিয়াউর রহমান: রাষ্ট্রপতি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬, ০১:৫৬ পিএম
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, আজ যে রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি, তার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তা পূর্ণতা দিয়েছেন।
শুক্রবার (১ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শ্রম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি জানান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত ত্রিপক্ষীয় শ্রম নীতি ও সংস্কার শ্রমকল্যাণকে শক্তিশালী করেছে। ১৯৭৬ সালে তিনি শ্রম মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ ৩৩টি দেশে বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর উদ্যোগ নেন। এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহের নতুন যুগের সূচনা হয়। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া শ্রম আইন ২০০৬ প্রণয়ন ও শ্রম কল্যাণ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ আরও বিস্তৃত করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার, শারীরিক ও মানসিক সুস্বাস্থ্য, নিরাপদ ও শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। একই সঙ্গে বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি শ্রমিকদের অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে শ্রমিক আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শ্রমিকদের ত্যাগ দেশের উন্নয়নে অপরিসীম ভূমিকা রেখেছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স এবং তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের অবদান বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস।
নারী শ্রমিকদের অধিকার প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি সমকাজে সমান মজুরি, মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে তিনি মিরপুরের রূপনগরে কেমিক্যাল গুদামে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৩ শ্রমিকের প্রতি শোক প্রকাশ করেন এবং তাদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার কথা উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে শিল্পকারখানায় নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, শ্রমিক, মালিক, সরকার ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ, মানবিক ও টেকসই শ্রমব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। মহান মে দিবসের চেতনা ধারণ করে তিনি সবাইকে শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।



