পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে রাজধানীর বাজারে ইলিশের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। চার দিনের ব্যবধানে প্রতিকেজি ইলিশের দাম সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ভালো মানের ইলিশ এখন কেজিপ্রতি ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা নিম্নআয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এমনকি মধ্যবিত্ত পরিবারও দামের চাপে ইলিশ কিনতে সাহস পাচ্ছে না। ফলে বাঙালির প্রাণের উৎসব বৈশাখে পান্তা-ইলিশের আয়োজন ফিকে হয়ে যাচ্ছে।
রোববার রাজধানীর কাওরানবাজার, নয়াবাজার ও মলিবাগ কাঁচাবাজারে দেখা যায়, পদ্মার এক থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৮০০-৪০০০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও এর দাম ছিল ৩২০০-৩৫০০ টাকা। এক কেজি বা তার কম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩২০০-৩৫০০ টাকায়, যা আগের তুলনায় ৩০০ টাকা বেশি। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩০০০-৩২০০ টাকায়।
চাঁদপুর ও বরিশালের ইলিশও একইভাবে বেড়েছে। এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩২০০-৩৫০০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩০০০-৩২০০ টাকা। এক কেজি ওজনের ইলিশ ২৭০০-৩০০০ টাকায় এবং ৮০০-৯০০ গ্রামের ইলিশ ২৩০০-২৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে গত বছরের কোল্ডস্টোরেজে রাখা ইলিশ তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে—কেজিপ্রতি ২৫০০-২৮০০ টাকা।
ক্রেতারা অভিযোগ করেছেন, অসাধু ব্যবসায়ী চক্র অতিরিক্ত মুনাফার আশায় দাম বাড়াচ্ছে। কাওরানবাজারে ইলিশ কিনতে আসা মো. আলাউদ্দিন বলেন, “পহেলা বৈশাখে ছেলে-মেয়েদের জন্য ইলিশ কিনতে এসেছিলাম। কিন্তু দাম শুনে আর সাহস পাচ্ছি না।”
শুধু ইলিশ নয়, অন্যান্য মাছের দামও বেড়েছে। খুচরা বাজারে ২০০ টাকার নিচে কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। পাঙ্গাশ ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০ টাকা, রুই ৩৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০-৩০০ টাকা, দেশি টেংরা ৬০০ টাকা, চিংড়ি ৯০০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা এবং কই ৪০০-৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতারা বলছেন, রোজার সময়ও মাছের দাম এত ছিল না। ঈদের পর থেকে বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। ফলে বৈশাখের উৎসবের আনন্দে ইলিশ-পান্তার ঐতিহ্য এবার অনেকের জন্য নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।



