শ্রমবাজার পুনরায় চালুর আলোচনায় মালয়েশিয়ায় মন্ত্রী-উপদেষ্টা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৮ এএম
বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণবিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন। নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে শুরু হওয়া এ সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন অভিবাসন বিশ্লেষক ও জনশক্তি রপ্তানিকারকরা।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা মালয়েশিয়ার সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার পুনরায় চালু করাই সফরের মূল লক্ষ্য। কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রীর আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের বিষয়টি প্রধান আলোচ্যসূচি হবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিন জানিয়েছেন, প্রতিনিধি দলটি মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করবে। আলোচনায় শ্রমবাজার পুনরায় চালু, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের সমস্যা, বিশেষ করে অবৈধ অবস্থানে থাকা কর্মীদের বিষয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আলোচনা হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা এবং মানবিক ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ভবিষ্যতে অনিয়মিত অভিবাসন রোধ এবং বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানো হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সফর বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শ্রম সম্পর্ক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। প্রায় দুই বছর ধরে মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ রেখেছে। এর পেছনে সিন্ডিকেটের প্রভাবের অভিযোগ থাকলেও বর্তমানে মালয়েশিয়া অন্যান্য সোর্স দেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগ করছে।
জনশক্তি রপ্তানিকারকরা আশঙ্কা করছেন, শ্রমবাজার পুনরায় চালু হলে পুরোনো সিন্ডিকেট আবার সক্রিয় হতে পারে। তারা সতর্ক করে বলেছেন, সরকারের কঠোর মনিটরিং ছাড়া একজন শ্রমিকের বিদেশযাত্রায় ব্যয় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে, যা পুনরুদ্ধারে আড়াই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে।



