এমটিএফই প্রতারণা: পাচার হওয়া ৪৪ কোটি টাকা ফেরত আনলো সিআইডি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬, ০২:১৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ের নামে পরিচালিত প্রতারণামূলক প্ল্যাটফর্ম এমটিএফই (মেটারভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ) থেকে পাচার হওয়া বিপুল অর্থের একটি অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। উদ্ধারকৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৪ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি।
সোমবার (৩০ মার্চ) রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাইবার পুলিশ সেন্টারের ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এমটিএফই পনজি স্কিমের মাধ্যমে অসংখ্য বিনিয়োগকারী প্রতারিত হয়েছেন। ২০২২ সালের জুন থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে প্ল্যাটফর্মটি। ফেসবুক ও ইউটিউব বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে দ্রুত লাভের প্রলোভন দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, ব্যবহারকারীদের ভার্চুয়াল ট্রেডিং অ্যাকাউন্টে কৃত্রিমভাবে লাভ দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো লেনদেন হয়নি। শুরুতে কিছু অর্থ ফেরত দিয়ে আস্থা অর্জন করে চক্রটি, পরে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ কার্যক্রম বন্ধ করে বিদেশে অর্থ পাচার করে।
সিআইডি জানায়, প্রতারণার মাধ্যমে আদায়কৃত অর্থ আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ ওকেএক্স-এ সংরক্ষিত ছিল। ব্লকচেইন বিশ্লেষণের মাধ্যমে অর্থের উৎস শনাক্ত করে আইনগত প্রক্রিয়ায় তা ফেরত আনা হয়। আদালতের নির্দেশনায় সোনালী ব্যাংকের মালিবাগ শাখায় সরকারি হিসাবে জমা হয় ৩৬ লাখ ২২ হাজার ৯৯৮ মার্কিন ডলার।
সিআইডি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক সহায়তার ফলে স্বল্প সময়ে অর্থ উদ্ধারে সফলতা এসেছে। ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। পাশাপাশি পাচার হওয়া অবশিষ্ট অর্থ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ডিআইজি আবুল বাশার তালুকদার বলেন, লোভের ফাঁদে পড়ে অনেক মানুষ সর্বস্ব হারাচ্ছেন। অনেকেই সামাজিক মর্যাদার কারণে আইনের আশ্রয় নেন না। গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করার আহ্বান জানান তিনি।



