বিদ্যুৎ খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬, ১১:৩১ এএম
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লি. (বিসিপিসিএল) ও বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লি. (বিআইএফপিসিএল)-এর বিদ্যুৎ ক্রয়ের বিপরীতে জমে থাকা বিপুল অংকের বকেয়া ভর্তুকি পরিশোধে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে বকেয়া থাকা এই দায় মেটাতে দুই দফায় মোট ৫ হাজার ৪৯৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ছাড় করা হয়েছে।
এর মধ্যে গত বছরের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য ৩ হাজার ৮৭৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা এবং চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি সময়ের জন্য ১ হাজার ৬২৩ কোটি ২১ লাখ টাকা যথাক্রমে গত ৮ ও ১৫ মার্চ অনুমোদন দেওয়া হয়।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) ভর্তুকি পরিশোধের অনুরোধ জানালেও আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়েছিল। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী ৫০ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে যেকোনো প্রস্তাব মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন ছাড়া কার্যকর করা যায় না।
গত বছরের মে মাস থেকে আটটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভর্তুকি স্থগিত রাখা হয়। পরবর্তীতে ছয়টি কেন্দ্রের ট্যারিফ অনুমোদিত হলেও বিসিপিসিএল ও বিআইএফপিসিএলের অনুমোদন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়। ফলে এই দুই কেন্দ্রের বকেয়া ভর্তুকি জমে যায়।
বর্তমানে রমজান, সেচ মৌসুম ও গ্রীষ্মের তীব্র গরমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা এড়াতে জনস্বার্থে অর্থ উপদেষ্টা বিশেষ শর্তসাপেক্ষে বিপুল অংকের অর্থ ছাড়ের অনুমোদন দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে রিটার্ন অন ইক্যুইটিসহ বিভিন্ন খাতে সমন্বয় করে ট্যারিফ কমানোর সুযোগ রয়েছে। সফলভাবে সমন্বয় সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে সরকারের ভর্তুকির চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ ও অর্থ বিভাগ যৌথভাবে প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে, যাতে আইনি জটিলতা কাটিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান নিশ্চিত করা যায়।



