সংযুক্ত আরব আমিরাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য’ ছড়ানোর অভিযোগে বাংলাদেশিসহ ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজধানী আবুধাবিসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাদের।
রোববার (১৫ মার্চ) সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল ড. হামাদ সাইফ আল শামসি তাদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ সংক্রান্ত ভুয়া ফুটেজ ছড়ানোর প্রমাণ মেলায় আসামিদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
বিবৃতিতে আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, কয়েক দিন ধরে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে কড়া নজরদারির পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, জনসাধারণের মধ্যে বিশৃঙ্খলা উসকে দেওয়া এবং সাধারণ স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে এ কাজ করছিলেন তারা।
এ ধরনের কাজ দেশটিতে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য এবং শাস্তি হিসেবে কমপক্ষে ১ বছরের কারাদণ্ড ও ১ লাখ দিরহাম জরিমানার বিধান রয়েছে।
শামসি বলেন, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে এমন বানোয়াট তথ্য এবং কৃত্রিম কন্টেন্ট ছড়ানো রোধ করতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তদন্ত ও ইলেকট্রনিক মনিটরিংয়ে দেখা গেছে আসামিরা তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন অপরাধ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বর্তমান পরিস্থিতির বাস্তব ক্লিপ প্রকাশ করা, এআই ব্যবহার করে বানোয়াট ক্লিপ তৈরি করা এবং সামরিক আগ্রাসন চালাচ্ছে এমন একটি রাষ্ট্র ও তাদের নেতৃত্বের প্রশংসা করা।’
ইউএইর রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়াম জানিয়েছে, প্রথম গ্রুপে তারা রয়েছেন যারা দেশের আকাশসীমা দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র যাওয়া বা সেগুলো প্রতিহত করার প্রকৃত ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করেছেন। তারা বিভিন্ন স্থানের ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্য দেখিয়েছেন এবং এমন মন্তব্য জুড়ে দিয়েছেন যা জনসাধারণের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে।
দ্বিতীয় গ্রুপে রয়েছেন তারা যারা হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বানোয়াট দৃশ্য তৈরি করেছেন অথবা অন্য কোনো স্থানে ঘটা ঘটনার ফুটেজ শেয়ার করে সেটিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঘটনা বলে দাবি করেছেন। এই কৃত্রিম ভিডিওগুলোকে সত্য প্রমাণ করতে বিস্ফোরণের সঙ্গে জাতীয় পতাকা বা নির্দিষ্ট তারিখ জুড়ে দেওয়া হয়েছিল।
তৃতীয় গ্রুপে রয়েছেন তারা, যারা তাদের পোস্টে একটি শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্রের প্রশংসা করেছেন এবং তাদের আঞ্চলিক সামরিক পদক্ষেপকে ‘সাফল্য’ হিসেবে অভিহিত করে সমর্থন জানিয়েছেন। তারা সেই রাষ্ট্রের নেতাদের প্রশংসা এবং প্রোপাগান্ডা বা প্রচারণামূলক কন্টেন্ট শেয়ার করেছেন। এই ক্যাটাগরিতে গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনই ভারতীয় এবং একজন পাকিস্তানি।



