তেলশূন্য অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন, জ্বালানি সংকটে দিশেহারা চালকরা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬, ০১:৫২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে দেশে জ্বালানি তেলের বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল মজুত করার প্রবণতা (‘প্যানিক বায়িং’) বাড়ায় ঢাকার বেশকিছু এবং গাজীপুরের অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন এখন পুরোপুরি তেলশূন্য হয়ে পড়েছে।
রোববার (৮ মার্চ) সকাল থেকে রাজধানীর প্রধান সড়ক ও জেলা পর্যায়ের পাম্পগুলোতে ঝুলছে ‘পেট্রোল নেই’, ‘অকটেন নেই’ লেখা পোস্টার। এতে বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও গণপরিবহনের চালকরা। অনেকেই এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ঘুরে ব্যর্থ হয়ে রাস্তার পাশে বা বন্ধ পাম্পের সামনে অপেক্ষা করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন জনশূন্য হয়ে পড়েছে। বিক্রয়কর্মীদের বদলে নিরাপত্তাকর্মীরা বসে আছেন। তেলের অভাবে আন্তঃজেলা রুটের কয়েকটি মিনিবাস মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে কিছু পাম্পে সিএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় সেখানে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে।
গাজীপুরের এক ফিলিং স্টেশনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা চাকরিজীবী কামরুল হাসান বলেন, “সকাল থেকে চারটি পাম্প ঘুরলাম, কোথাও এক লিটার তেলও পেলাম না। অফিসে কীভাবে যাব বুঝতে পারছি না।” আরেক চালক আরিফ আহমেদ বলেন, “এমন অবস্থায় গাড়ি বের করা সম্ভব নয়। পাম্পে গিয়ে দেখি ‘তেল নাই’ বোর্ড ঝুলছে।”
অন্যদিকে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় দুটি ফিলিং স্টেশনে সীমিত পরিমাণে তেল সরবরাহ থাকায় সেখানে শত শত চালক ভিড় করেছেন। চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় সরকার নির্দেশিত রেশনিং পদ্ধতিতে সীমিত পরিমাণে তেল দেওয়া হচ্ছে।
সরকার জানিয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় রোববার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার, ব্যক্তিগত গাড়ি ১০ লিটার এবং এসইউভি বা মাইক্রোবাস ২০–২৫ লিটার তেল নিতে পারবে।
পরিবহন খাতের জন্য ডিজেল সরবরাহেও সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় রুটের বাস বা পিকআপ ভ্যান দৈনিক ৭০–৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক বা কনটেইনারবাহী লরি ২০০–২২০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদি সংকট এড়াতে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।



