মহিলা দলের সহ-সভাপতিকে ঘিরে বহুমুখী স্ক্যান্ডাল ও আইনি জটিলতা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬, ০১:১৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বিএনপি নেত্রী ও ব্রিটিশ নাগরিক জেবা আমিনা আহমেদকে ঘিরে এক নজিরবিহীন স্ক্যান্ডাল ও আইনি জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ হলো—প্রথম স্বামীকে আইনত তালাক না দিয়েই ২০০৫ সালে বাংলাদেশে এসে দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া। ইসলামী শরীয়াহ ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
প্রথম স্বামী নিয়াজ বিন করিমের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ ঘটে ২০০৭ সালে, যা প্রমাণ করে যে তিনি দুই বছর ধরে একসঙ্গে দুই স্বামীর ঘর করেছেন। এ ঘটনা সামাজিক ও ধর্মীয় মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়।
শুধু অবৈধ বিবাহই নয়, লন্ডনে অবস্থানকালে ব্যবসায়িক প্রতারণা, ঋণখেলাপি এবং আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগও তার বিরুদ্ধে ওঠে। ব্রিটিশ সরকার তার প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি বন্ধ করে দেয় এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
বাংলাদেশে ফিরে তিনি আবাসন ব্যবসায়ী মোকাররম হোসেন খানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে অর্থলিপ্সা, প্রতারণা ও পারিবারিক কলহের কারণে ২০১৭ সালে সেই সংসারও ভেঙে যায়। মোকাররম হোসেন তার বিরুদ্ধে সম্পত্তি দখল, জালিয়াতি ও হামলার অভিযোগ এনে একাধিক মামলা দায়ের করেছেন।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, জেবা আমিনা তার পৈত্রিক সম্পত্তি এককভাবে দখল করে রেখেছেন এবং উত্তরাধিকারীদের ন্যায্য অংশ থেকে বঞ্চিত করেছেন। এমনকি একই ফ্ল্যাট একাধিক ক্রেতার কাছে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগও উঠেছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রথম স্বামীকে তালাক না দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করা শুধু ধর্মীয় বিধান নয়, দেশের প্রচলিত আইনেও গুরুতর অপরাধ। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
এই বহুমুখী অভিযোগ ও বিতর্ক বিএনপির এই নেত্রীর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।



