Logo
Logo
×

জাতীয়

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি

ব্যবসায়ীদের অনুকূল পরিবেশ জরুরি: ড. ফাহমিদা খাতুন

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম

ব্যবসায়ীদের অনুকূল পরিবেশ জরুরি: ড. ফাহমিদা খাতুন

বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। এরমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে দেশের অর্থনীতি আরো চাপের মুখে পড়বে। তেলের দাম বাড়বে, মানুষ কাজ হারাবে ও স্বাভাবিক সরবরাহ বিঘ্নিত হবে। এক্ষেত্রে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে চলমান রাখতে ব্যবসায়ীদের জন্য একটা অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। বেশিরভাগ ব্যবসায়ী দেশের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগের জন্য কাজ করতে চায়। আমাদের সংস্কৃতিতে যখন রাজনৈতিক পালাবদল হয় তখন আগের সময়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার বহি:প্রকাশ দেখা যায়। ফলে সকলের প্রতি সুবিচার করা হয় না। ঢালাওভাবে ব্যবসায়ীদের ওপর কালিমা দেওয়া ঠিক না।

যেসব ব্যবসায়ী ও ব্যক্তিখাত অর্থনীতিতে অবদান রাখতে চান নিবার্চিত সরকারকে তাদের কাজের সুযোগ করে দেওয়ার সময় এসেছে। এক্ষেত্রে যাচাই বাছাই করে ব্যবসায়ীদের বন্ধ হওয়া ব্যাংক হিসাব খুলে দেয়া উচিত। তবে যারা অন্যায় করেছে তাদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক একটি বিশেষায়িত পবিত্র প্রতিষ্ঠান। অর্থনীতির একটা প্রাণকেন্দ্র। সাধারণ জনগনের অর্থের পাহারাদার। অতীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রাজনীতিকরণ করা হয়েছে। যার কারণে ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপির পরিমান অনেক বেড়েছিলো।

আজ (০৭ মার্চ ২০২৬, শনিবার) এফডিসিতে জনপ্রত্যাশা পূরণে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র অয়োজনে এক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিপিডি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান জনাব হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বিএনপি সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ইনহ্যারিট করছে। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ব্যবসায়ীদের আস্থায় আনা জরুরি। তাই ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করা উচিত। ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ঢালাও মামলা, দেশে ফিরে ব্যবসা পরিচালনা করতে না পারা, ব্যাংক হিসাব জব্দকরাসহ নানা কারণে ব্যবসা—বাণিজ্য ও বিনিয়োগে প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। তা না হলে মধ্যপ্রচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। গভর্নর হিসেবে মোস্তাকুর রহমান দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার চলছে। কেউ কেউ অপব্যাখ্যা দিয়ে বলছেন নতুন গভর্নর দায়িত্ব পেয়েই ন্যাশনাল ব্যাংককে ১ হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা প্রদান করেছেন। এই তথ্য মোটেই ঠিক নয়। মূলত মোস্তাকুর রহমান গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পাবার আগেই পূর্বের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সময় ন্যাশনাল ব্যাংক ও এবি ব্যাংককে ১ হাজার কোটি টাকা করে মোট ২ হাজার কোটি টাকা, প্রিমিয়ার ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকা দেয়া হয়েছিলো। এছাড়াও এক্সিম ব্যাংক, ফাস্টর্ সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, এসআইবিএল, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংককে আরো ৪০ হাজার কোটি টাকা তারল্য সুবিধা প্রদান করা হয় পূর্বের গভর্নরের সময়। পূর্বের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এর সময়কালে বিভিন্ন ব্যাংককে ৫১ হাজার কোটি টাকার উপরে এই তারল্য সুবিধা দেয়া হয়। বর্তমান গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের কাজের মূল্যায়নের সময় এখনো আসেনি। এর জন্য অন্তত আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। নতুন গভর্নরকে নিয়ে অপব্যাখ্যা, অপপ্রচার ও অবমূল্যায়ন করে তার প্রতি অবিচার করা হচ্ছে।

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র আয়োজনে “অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের মাধ্যমেই নতুন সরকার জনপ্রত্যাশা পূরণে এগিয়ে যাবে” শীর্ষক ছায়া সংসদে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকদের পরাজিত করে প্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যপক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, সাংবাদিক দৌলত আক্তার মালা, সাংবাদিক জাকির হোসেন, সাংবাদিক রিজভী নেওয়াজ এবং সাংবাদিক রেফায়েত উল্লাহ মীরধা। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন