হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড বাপ্পির বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং মামলা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাজুল (তাইজুল) ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পির বিরুদ্ধে আড়াই কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খানের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সিআইডির অনুসন্ধান
সিআইডির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, পল্লবী–মিরপুর এলাকায় পরিবহণ খাত, ফুটপাতের বাজার, গার্মেন্টসের ঝুট কাপড়, ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বাপ্পি। তিনি নিজেকে পোশাক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘স্মার্ট ফ্যাশন’ এবং বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ‘মেসার্স চৌধুরী অ্যান্ড খান অটোব্রিকস’ নামে একটি ইটভাটার মালিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন।
২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি প্রায় ৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা আয় দেখালেও তার সম্পদের হিসাব মিলছে না। ঘোষিত আয়ের সঙ্গে প্রকৃত সম্পদের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকার পার্থক্য পাওয়া গেছে। এছাড়া নিষিদ্ধ এলাকায় স্থাপিত ইটভাটা থেকে প্রায় ৪৮ লাখ টাকা আয় দেখানো হয়েছে, যা অবৈধ উৎস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
অবৈধ সম্পদের প্রমাণ
সিআইডির অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, জমি ক্রয়ের সময় দলিলে প্রকৃত মূল্য গোপন করেছেন তিনি। দলিলে ৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা দেখানো হলেও প্রকৃত মূল্য ছিল প্রায় ৫৩ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে প্রায় ২ কোটি ৫১ লাখ টাকার অবৈধ আয়, স্থানান্তর ও রূপান্তরের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তার বিভিন্ন হিসাবে লেনদেন হওয়া অর্থের পরিমাণ ৫৬ কোটি টাকার বেশি। বর্তমানে আদালতের আদেশে প্রায় ৬ লাখ টাকার স্থিতি জব্দ রয়েছে। এছাড়া তার দুটি প্রতিষ্ঠানের অডিট প্রতিবেদন ভুয়া বলে প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি।
হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট
২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টনে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় মাস্টারমাইন্ড হিসেবে বাপ্পির নাম উঠে আসে। পুলিশের তদন্তে জানা যায়, তিনি ভারতে বসে হত্যার নির্দেশ দেন।
হাদি হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ডিবি পুলিশ ১৭ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করলেও বাদী নারাজি আবেদন করলে আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেয়। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় একাধিকবার পিছিয়েছে।
সিআইডি জানিয়েছে, অর্থপাচার ও আর্থিক অপরাধ দমনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হবে।



