ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশে জ্বালানি নিয়ে আতঙ্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে শুরু করেছে। সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে জ্বালানি সংকট। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সরকার জ্বালানি ও গ্যাস রেশনিং শুরু করেছে। একই সঙ্গে অস্থির স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি ও পরিশোধিত তেল সংগ্রহে মরিয়া চেষ্টা চলছে।
জ্বালানি কেনায় আতঙ্ক
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল কিনতে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। সিএনজি স্টেশনগুলোতেও একই অবস্থা। বিপিসি কর্মকর্তারা বলছেন, এখনই তেলের সংকট নেই, তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে আগামী মাসে সংকট দেখা দিতে পারে। বর্তমানে ডিজেল ১৪ দিন, অকটেন ২৮ দিন, পেট্রোল ১৫ দিন, ফার্নেস ৯৩ দিন ও জেট ফুয়েল ৫৫ দিনের মজুত রয়েছে।
সরকারের পদক্ষেপ
বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি বরাদ্দ ১০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাস সরবরাহ ৫০ এমএমসিএফডি কমানো হয়েছে। সিলেটের শাহজালাল ফার্টিলাইজার ছাড়া সব সার কারখানা বন্ধ রাখা হচ্ছে। মজুতদারি ও চোরাচালান ঠেকাতে ভিজিল্যান্স টিম মোতায়েন করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক উদ্যোগ
জরুরি আমদানির জন্য সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, চীন ও আফ্রিকার সরবরাহকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সৌদি আরবের বাইরে থেকেও আরামকো পরিশোধিত তেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মার্চ মাসে পরিকল্পিত ৭ কার্গো এলএনজি আমদানির মধ্যে কাতার ২টি কার্গো দিতে পারবে না বলে জানিয়েছে। সেই ঘাটতি পূরণে স্পট মার্কেট থেকে সিঙ্গাপুরভিত্তিক কোম্পানি গানভোর ও ভিটোল এশিয়ার মাধ্যমে সংগ্রহ করা হচ্ছে।
জনগণের প্রতি আহ্বান
সরকার অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত পরিহার, গণপরিবহন ব্যবহার, কার-পুলিং ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই উদাহরণ তৈরি করে দপ্তরে ৫০ শতাংশ বাতি বন্ধ রেখেছেন এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সেট করেছেন।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে ১ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, এখনই শঙ্কার কিছু নেই, তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে।



