‘ফ্যামিলি কার্ড’ কারা পাবেন, আবেদন করবেন কীভাবে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেওয়া অন্যতম অঙ্গীকার বাস্তবায়নে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নবনির্বাচিত সরকার। আগামী ১০ মার্চ দেশের ১৪টি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ কর্মসূচি শুরু হবে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বৈঠকে বলা হয়, নির্বাচিত ১৪টি উপজেলায় প্রাথমিকভাবে কার্ড বিতরণ করা হবে এবং নির্ধারিত একটি উপজেলায় উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
পাইলট প্রকল্পের আওতা ও বাছাই
সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, প্রথম ধাপে ১৪টি উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ১৪টি ওয়ার্ডকে পাইলট প্রকল্পের জন্য বাছাই করা হয়েছে।
কার্ডটি পরিবারের মা বা নারীপ্রধানের নামে ইস্যু করা হবে। সরকারের লক্ষ্য নারীর আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং পরিবারভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করা।
একটি কার্ডে সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পরিবারের সদস্যসংখ্যা পাঁচের বেশি হলে প্রতি পাঁচজনের জন্য আলাদা কার্ড দেওয়া হবে।
মন্ত্রী জানান, কোনো দপ্তরে বসে তালিকা নয়, বরং বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে ডেটাবেস তৈরি করা হচ্ছে। হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবার অগ্রাধিকার পাবে। চার মাসের মধ্যে পাইলট প্রকল্পের মূল্যায়ন শেষে সারা দেশের উপজেলাগুলোতে কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
আর্থিক সহায়তা ও বিতরণ পদ্ধতি
কার্ডধারী পরিবার প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অর্থ সরাসরি উপকারভোগীর ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠানো হবে। প্রাথমিকভাবে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে থোক বরাদ্দ নেওয়া হচ্ছে। আগামী জুনের জাতীয় বাজেটে এ খাতে নিয়মিত বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রশাসনিক কাঠামো ও তদারকি
প্রকল্প বাস্তবায়নে দ্বিস্তর তদারকি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে ইউএনওর নেতৃত্বে কমিটি কাজ করবে। ওয়ার্ড পর্যায়ে সরকারি কর্মচারীদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি তথ্য যাচাই করবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। জাতীয় পরিচয়পত্রভিত্তিক কেন্দ্রীয় ডেটাবেস তৈরি করা হচ্ছে, যাতে একই ব্যক্তি একাধিক সুবিধা না পান।
আবেদন প্রক্রিয়া
বর্তমানে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ চলছে। পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত আবেদন ফরমের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান অথবা সরকারি অনলাইন পোর্টাল থেকে আবেদন করা যাবে। আবেদনকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র, রঙিন ছবি এবং সক্রিয় মোবাইল বা ব্যাংক নম্বর প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার পর থেকেই এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে উদ্যোগ শুরু হয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।



