ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি
নির্বাচনী বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:১১ পিএম
একুশ আমাদের জাতীয় জীবনে অতন্ত্য তাৎপর্যময়। একুশের ধারাবাহিকতা থেকেই ৬৯,৭১, ৯০ ও ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান। এসব আন্দোলনই ছিলো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন। এভাবে অনেক বছর দেশের মানুষ যথাযথভাবে গণতন্ত্র অনুশীলন করতে পারেনি। তাই ১২ ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ছিলো জাতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যময়। বিগত সময়ে আমাদের অনেক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছে। যতখানি আমরা ভেবেছিলাম তার চেয়েও অনেক বেশি ধ্বংস করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তুপের উপর দাড়িয়ে কাজ করতে হচ্ছে বর্তমান সরকারকে। দলীয়করণ, আত্নীয়করণ, দুর্নীতি, অনাচার, অযোগ্য মানুষদের দায়িত্ব প্রদান, এ সবকিছু মিলিয়েই সর্বনাশটি করা হয়েছে। সমাজে, রাজনীতিতে, ব্যবসায় সব শ্রেণির মাঝেই অনেক কষ্ট। আমাদের যুবসমাজ বর্তমানে হতাশ। তাদের অন্তরে অনেক আক্ষেপ, অনেক আকাঙ্খা। তাদের এই আকাঙ্খা পুরনের মাধ্যমে আক্ষেপ দূর করতে হবে ও তাদের মনে আশা জাগাতে হবে। আমাদের তরুণ জনগোষ্ঠী বিশাল। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে রূপান্তরিত করতে পারলেই আগামীতে আমাদের দেশের চেহারা পাল্টে যাবে। আমরা বিপুল গৌরবে বিশে^র বুকে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবো। আজ (২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, শনিবার) তেজগাঁওস্থ এফডিসিতে নির্বাচনী বিতর্ক প্রতিযোগিতা—২০২৬ এর চ্যাম্পিয়ন, রানারআপসহ বিজয়ী দলসমুহের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম খান প্রধান অতিথির বক্তবে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান জনাব হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, অতীতের যে কোন নির্বাচনের চেয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ছিলো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ নির্বাচন নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা ছিলো অনেক বেশি। এবারের নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পালাবদলের নির্বাচন ছিলো না। নাগরিক মর্যাদা পুন:প্রতিষ্ঠার নির্বাচন। রাষ্ট্রের ক্ষমতা জনগনের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্বাচন। জাতিকে বিগত সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত কলঙ্কিত নির্বাচনের কালিমা থেকে মুক্ত করার নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে মানুষ ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে ভোট দিয়ে বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা লক্ষ্য করছি বিএনপি’র চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণের পর তিনি, তাঁর মন্ত্রীপরিষদ ও উপদেষ্টারা জনগনের সরকার প্রতিষ্ঠা, হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বহুমূখী কর্মসূচীর বার্তা দিচ্ছেন। যা আমাদের আশাবাদী করছে। আমরা আশা করি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নবগঠিত সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া তাদের প্রতিশ্রম্নতিগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করবেন। এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাচনী প্রতিশ্রম্নতি অনুযায়ী খাল খনন, বৃক্ষ রোপন কর্মসূচী, ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের যে উদ্যোগ নতুন সরকার করতে যাচ্ছে তাকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে বিগত সরকারের আমলে লাইফ সাপোর্টে রেখে যাওয়া অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগে আস্থা ফেরানো, দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি, জ¦ালানী নিরাপত্তা, মব কালচার প্রতিরোধসহ নানামূখী চ্যালেঞ্জ রয়েছে নবগঠিত সরকারের জন্য। প্রধানমন্ত্রী সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করা, তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিবর্তে সচিবালয়ে মন্ত্রীসভার বৈঠক করা, এমপিদের শুল্কবিহীন গাড়ি না নেওয়া, সরকারি প্লট গ্রহণ না করার সিদ্ধান্তসহ মাত্র ৫ দিনের এই সরকারের নানা পদক্ষেপ ইতিবাচক সূচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন স্টেট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান, অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান, অধ্যাপক ড. আফরোজা বেগম এবং অধ্যাপক সিক্তা দাস।
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত উক্ত নির্বাচনী বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন, রানারআপ ও দ্বিতীয় রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে যথাক্রমে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ইডেন মহিলা কলেজ ও তেজগাঁও কলেজ। প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ বক্তা হয় ইডেন মহিলা কলেজের বিতার্কিক মাসনুন নাবিলাহ আলম। প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন দলকে ২ লক্ষ টাকা, প্রথম রানারআপ দলকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ও দ্বিতীয় রানারআপ দলকে ১ লক্ষ টাকাসহ ট্রফি, ক্রেস্ট, সনদপত্র প্রদান করা হয়। এছাড়া শ্রেষ্ঠ বক্তাকে নগদ ৫০ হাজার টাকাসহ ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।



