গণভোটে বিভ্রান্তি, বেরাইদে দীর্ঘ লাইন: ভোট দিতে অপেক্ষা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:১৪ এএম
রাজধানীর বাড্ডার বেরাইদ এলাকায় একেএম রহমত উল্লাহ কলেজ কেন্দ্রটিতে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের লাইন দীর্ঘ হতে থাকে। বিশেষ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাহিদ ইসলাম ভোট দেওয়ার পর কেন্দ্রটিতে উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, লাইনের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ গণভোট প্রক্রিয়া নিয়ে ভোটারদের বিভ্রান্তি। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক ভোটার ভোটকক্ষে পৌঁছাতে দেরি করছেন।
কয়েকজন ভোটার জানান, সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট যুক্ত হওয়ায় ভোটকক্ষে সময় বেশি লাগছে। বিশেষ করে বয়স্ক ভোটারদের অনেকে গণভোটের পদ্ধতি বুঝতে না পেরে অতিরিক্ত সময় নিচ্ছেন।
লাল মোহাম্মদ নামে এক ভোটার বলেন, তিনি প্রায় ৪০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তার ভাষ্য, ভোট দিতে কোনো সমস্যা হয় নাই, তবে সময় একটু বেশি লাগছে।
আরেক ভোটার মো. উমেদ আলী জানান, তার প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগেছে ভোট দিতে। তিনি বলেন, অনেকেই গণভোট বুঝতে পারতেছে না। তাদের দেখাইতে কিছুটা সময় লাগতেছে।
শাপলা কলির পক্ষে কাজ করা জাহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, গণভোটের ব্যালটে নির্ধারিত টিক বা ক্রস চিহ্ন দেওয়ার পরিবর্তে অনেকে সিল মারছেন। এতে ব্যালট বাতিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে এবং কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যা দিতে বাড়তি সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী ভোটার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি ৮টায় আইছি। সাড়ে ৯টায়ও ভোট দিতে পারি নাই। কেন দেরি হইতেছে আমরা কি জানি।
একটি কক্ষের সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার আফরিনা আজাদ বলেন, অনেককেই বুঝিয়ে দিতে দেরি হচ্ছে। এর বেশি কিছু বলতে পারব না।
এদিকে দেখা গেছে, এক ভোটার গণভোটের ব্যালট হাতে নিয়ে ভোটকক্ষের বাইরে এসে জানতে চাইছেন কীভাবে ভোট দিতে হবে এবং ব্যালট পেপার কীভাবে ভাঁজ করতে হবে। পরে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার তাকে প্রক্রিয়া বুঝিয়ে দেন।
ভোটারদের একটি অংশ মনে করছেন, গণভোটের বিষয়ে আগাম পর্যাপ্ত প্রচার ও স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলে এ ধরনের ভোগান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব হতো।



