Logo
Logo
×

জাতীয়

নির্বাচন ও গণভোট

ভোটের দিন বন্ধ থাকবে সব স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:১৫ এএম

ভোটের দিন বন্ধ থাকবে সব স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা বলয় আরও শক্তিশালী করছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে ভোটের দিন দেশের সব স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য নাশকতা, অস্ত্র পাচার কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তির যাতায়াত ঠেকাতে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোর ৬টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি ভোর ৬টা পর্যন্ত দেশের সব স্থলবন্দরের বহির্গমন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এই সময়ে কোনো ব্যক্তি স্থলবন্দর ব্যবহার করে দেশত্যাগ বা দেশে প্রবেশ করতে পারবেন না।

সূত্র জানায়, নির্বাচনের আগে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে গোয়েন্দা সংস্থা, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পৃথক প্রতিবেদনের আলোকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, সীমান্ত উন্মুক্ত থাকলে অস্ত্র, বিস্ফোরক বা সন্ত্রাসী উপাদান প্রবেশের ঝুঁকি বাড়তে পারে। পাশাপাশি রাজনৈতিক সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিরা নির্বাচনকালীন সময়ে দেশত্যাগের চেষ্টা করতে পারে।

নির্বাচন ও গণভোট নির্বিঘ্ন করতে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক, নৌপরিবহন সচিব, পররাষ্ট্র সচিব এবং বিজিবির মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গোয়েন্দা সূত্রের তথ্যে জানা গেছে, নির্বাচন সামনে রেখে সীমান্তকে ব্যবহার করে অস্ত্র বা বিস্ফোরক প্রবাহের ঝুঁকি রয়েছে। এ ছাড়া অতীতে ভোটের সময় বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ কিংবা গুজব ছড়িয়ে উত্তেজনা সৃষ্টির নজিরও রয়েছে। এসব ঝুঁকি ঠেকাতে সীমান্তে কার্যত ‘জিরো মুভমেন্ট’ নীতি কার্যকর করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা সরকারের এ সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত বলে মনে করছেন। তাদের মতে, নির্বাচনী সময়ে সীমান্ত উন্মুক্ত থাকলে দুর্বৃত্তরা সহজেই দেশে ঢুকতে বা দেশ ছাড়তে পারে। স্থলবন্দর বন্ধ রাখলে সেই ঝুঁকি প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়, যা নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখে।

নির্বাচনের সময় পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, সেনাবাহিনী ও আনসারসহ সব বাহিনীর দায়িত্ব একযোগে বেড়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে স্থলবন্দরে নিয়মিত ইমিগ্রেশন কার্যক্রম চালু থাকলে জনবল বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে সব বাহিনীকে একক লক্ষ্য— নির্বাচনের নিরাপত্তা— সামনে রেখে কাজ করতে এই সিদ্ধান্ত সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এর পাশাপাশি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও দেশটির সেনাবাহিনীর চলমান সংঘাতও সরকারকে সতর্ক অবস্থানে রেখেছে। এতে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও অস্ত্র পাচারের ঝুঁকি বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। নির্বাচন সামনে রেখে এই ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি বলেই সীমান্ত বন্ধের সিদ্ধান্তকে অনিবার্য হিসেবে দেখছে সরকার।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক কর্নেল (অব.) কাজী শরীফ বলেন, নির্বাচনী সময়ে সীমান্ত উন্মুক্ত রাখা রাষ্ট্রের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। সীমান্ত অনেক সময় সন্ত্রাসী বা অন্তর্ঘাতকারী গোষ্ঠীর জন্য সহজ প্রবেশপথে পরিণত হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সীমান্ত বন্ধ রাখা একটি সাহসী ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিবেচনায় উচ্চমানের সিদ্ধান্ত।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে অপরাধচক্র সাধারণত দুই ধরনের তৎপরতায় জড়ায়— দেশে ঢুকে নাশকতা করা অথবা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া। স্থলবন্দর বন্ধ থাকলে উভয় পথই কার্যত রুদ্ধ হয়, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বড় সুবিধা।

এ বিষয়ে প্রশাসনিক আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার জাহিদ রহমান বলেন, নির্বাচন বা গণভোটের মতো সংবেদনশীল সময়ে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ সরকারের সাংবিধানিক ও আইনসম্মত অধিকার। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে— নির্বাচনী সময়ে কোনো বিদেশি প্রভাব, অন্তর্ঘাত বা সন্দেহভাজন গতিবিধিকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন