এই নির্বাচন বাংলাদেশকে জেতানোর নির্বাচন: ডিসি জাহিদুল
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:১১ পিএম
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, ‘১২ তারিখের নির্বাচনের মাঠে বিভিন্ন দল অংশগ্রহণ করবে। কেউ জিতবে, কেউ হারবে। কিন্তু আমরা অংশগ্রহণ করেছি সমগ্র দেশকে জেতাতে। আমরা জেতাতে চাই সমগ্র দেশের মানুষকে, দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চাই।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামের রাউজান সরকারি কলেজে রাউজান উপজেলার প্রিজাইডিং অফিসারদের ব্রিফিং ও যৌথ মহড়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে গাফিলতির বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এখানে কোনো ছাড় নেই। কারও মধ্যে যদি নেতিবাচক মানসিকতা থাকে, তবে এই প্রক্রিয়া থেকে সরে যান—নইলে পরিণতি কঠিন হবে।’
তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন কোনো ক্ষমতার পালাবদল বা চেয়ারের পরিবর্তন নয়। এটি আগামী বাংলাদেশের একটি রূপরেখা—যে বাংলাদেশে আপনি, আমি এবং আমাদের সন্তানেরা নিরাপদে বসবাস করবে।’
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনী মাঠে কেউ যদি তার যোগ্যতা ও দক্ষতার ঘাটতির প্রমাণ দেয়, তার কোনো ছাড় নেই। আমাদের লক্ষ্য—একটি উৎসবমুখর ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া।’
নির্বাচনে সবাই মনিটরিংয়ের আওতায় রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাকেও মনিটরিং করা হচ্ছে, আপনাকেও। কেউ এর বাইরে নয়। এই জাতির ক্রান্তিকালে দেশ কোনো বেইমান বা দেশপ্রেমহীন মানুষ দেখতে চায় না।’
তিনি জানান, ‘কোনো কেন্দ্রে ঘটনা ঘটলে পাঁচ মিনিটের মধ্যে মোবাইল টিম পৌঁছাবে। গাফিলতি হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘আপনাদের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত ফোর্স থাকবে। তবে নাগরিকরা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে—সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা আপনাদের দায়িত্ব।’
তিনি বলেন, ‘আপনাদের হাতে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, সেই ক্ষমতার সঠিক প্রয়োগ করতে হবে। এই দেশ এসেছে ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে। সেই রক্তের সঙ্গে কোনো প্রতারণা চলবে না।’
দেশের সংগ্রামী ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ আপনাদেরও যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়ে দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।’
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘একজন নাগরিক জীবনে কয়বার দেশকে কিছু দেওয়ার সুযোগ পায়? আজ আপনাদের সামনে সেই সুযোগ এসেছে। কারণ এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার।’
তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অনুরাগ থাকতেই পারে, কিন্তু নির্বাচন কমিশনের অধীনে দায়িত্ব নেওয়ার পর শুধু দেশের প্রতিই দায়বদ্ধ থাকতে হবে।’
বিবেক ও নিরপেক্ষতার ওপর জোর দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘বিবেক বিক্রি করবেন না। আল্লাহপ্রদত্ত মেরুদণ্ড বাঁকা করবেন না। গোলামির কারণে অনেক রক্ত ঝরেছে—এই ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না।’
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের যে আমানত আপনাদের হাতে দেওয়া হয়েছে, তা নিরপেক্ষভাবে রাষ্ট্রকে ফিরিয়ে দিতে হবে—১২ ফেব্রুয়ারির একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে।’
নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি জানান, ‘প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা রয়েছে, আনসার বাহিনী অপারেশনাল ডিভাইস ব্যবহার করছে, পুলিশের বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরাও রয়েছে। কোনো ঘটনাই মনিটরিংয়ের বাইরে নয়।’
তিনি বলেন, ‘এবার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ডেপ্লয়মেন্ট হয়েছে—আনসার, পুলিশ, সেনাবাহিনী, এয়ারফোর্সসহ সবাই যুক্ত। এটি কোনো ছেলে-খেলা নয়।’
আবারও সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘কারও মধ্যে যদি নেতিবাচক মানসিকতা থাকে, এখনই সরে যান। অন্যথায় পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না, আমাদের সন্তানেরা বড় হয়ে দেশ ছেড়ে চলে যাক। এই দেশ আমাদেরই গড়ে তুলতে হবে।’
সরকারি কর্মচারীদের নিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নিরপেক্ষতার মাধ্যমেই আমাদের গায়ে লাগা সব কালিমা মুছে ফেলতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘১২ তারিখে আপনারা আপনাদের মেধা ও যোগ্যতার পরীক্ষা দেবেন। রাষ্ট্রের পবিত্র আমানতের যোগ্য প্রমাণ দেবেন।’
বিশ্বের দৃষ্টি বাংলাদেশের দিকে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘বিশ্ব দেখছে—বাংলাদেশ কি আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পারে কি না। আমরা সেই নির্বাচন উপহার দিয়ে ঘরে ফিরতে চাই।’
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘যেদিন নাগরিকরা হাসিমুখে ভোট দিয়ে ঘরে ফিরবে—সেদিন আমাদের সব কষ্ট সার্থক হবে। আমরা দেশকে জেতাতে পারব।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিরাজুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান এবং সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ বশির আহমেদ।
এছাড়াও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাবের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস. এম. রাহাতুল।
ব্রিফিং সভার পাশাপাশি নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা, দায়িত্ব বণ্টন, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় কার্যক্রম বিষয়ে একটি যৌথ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।



