Logo
Logo
×

জাতীয়

ভোটের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের শুল্ক চুক্তি সই

Icon

অনলাইন ডেস্ক :

প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম

ভোটের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের শুল্ক চুক্তি সই

ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের শুল্ক চুক্তি সই হচ্ছে। ভোটের তিন দিন আগে ৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। 

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তারিখ পেয়েছি। এ তারিখে সই করার জন্য অনুমোদন চেয়ে সারসংক্ষেপ পাঠিয়েছি। এতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।’

বাংলাদেশের ওপর আরোপ করা ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্কহার নিয়ে এর আগে গত আগস্টে সমঝোতা হয় দুই দেশের, কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষর বাকি ছিল।

চুক্তির খসড়া এবং পাল্টা শুল্কের হার কত হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘২০ শতাংশ আছে। কিছু দেশে একই আছে, আবার কিছু দেশে আছে এর চেয়ে বেশি। আশা করছি, হার কিছুটা কমবে। তবে ৯ ফেব্রুয়ারির আগ পর্যন্ত নিশ্চিত করা যাচ্ছে না ।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা ছাড়ছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা  ও বাণিজ্য সচিব। তারা আগে জাপান যাবেন। পরদিন জাপানের রাজধানী টোকিওতে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (বিজেইপিএ) সই হবে। সেখান থেকেই তারা ওয়াশিংটনে যাবেন।

জাপানের সঙ্গে ইপিএ নিয়ে গত ২২ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, চুক্তি স্বাক্ষর হলে প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। অন্যদিকে জাপানের ১ হাজার ৩৯টি পণ্য বাংলাদেশের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুবিধা পাবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে ভারতের সম্প্রতি যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সই হয়েছে, তা নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন কি না জানতে চাইলে বাণিজ্যসচিব বলেন, ‘উদ্বেগের কিছু নেই। তৈরি পোশাক খাতে সক্ষমতা অর্জন করে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ আমরা। আর ভারত বস্ত্র খাতে বেশ ভালো। গোটা বিশ্বেই তাদের একটা অবস্থান আছে। আমাদের কাঁচামালও তাদের কাছ থেকে আমদানি করা হয়।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের পণ্যের ওপর প্রথমে ৩৭ শতাংশ এবং পরে ৩৫ শতাংশ ‘পাল্টা শুল্ক’ ঘোষণা করে আলোচনার সুযোগ রেখেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনে তৃতীয় দফার আলোচনা শেষে গত ৩১ জুলাই পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশে নামানো হয়। তবে এজন্য দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর প্রতিশ্রুতিসহ বাংলাদেশকে বেশ কিছু ছাড় দিতে হয়।

বাণিজ্য সচিব আরও বলেন, ‘ভারত বেসিক টেক্সটাইলে অনেক স্ট্রং। হোল ওয়ার্ল্ডে তাদের ভালো অবস্থান আছে। আমাদের ম্যাটেরিয়ালও তাদের কাছ থেকে প্রকিউর করি। কাজেই এই দুই দেশ এখনো কমপ্লিমেন্টারি অবস্থায় আছে। যেমন, তারা উপকরণ উৎপাদন এবং তাদের বেসিক কটনটাও আছে। তাদের যা লাগে পুরোটাই আছে। ফলে ভারত আমাদের সঙ্গে এ ব্যাপারে কম্পিটেটর না কমপ্লিমেন্টারি।’

এলডিসির পরে তো আমরা অনেক সুযোগ সুবিধা হারাব। অনেক শুল্ক আমাদের নতুন যুক্ত হবে। সেক্ষেত্রে এফটিএ নিয়ে সরকার নতুন করে কিছু ভাবছে কিনা- জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘হ্যাঁ আমরা অনেক দেশের সঙ্গে এফটিএ করছি। ইতোমধ্যে জাপানের সঙ্গে এ বিষয়ে সব আলোচনা শেষ করেছি। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি দেশটির সঙ্গে এফটিএ সই করব।’

মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবারে আমাদের সাউথ কোরিয়ার সঙ্গে দ্বিতীয় দফা নেগোসিয়েশন সম্পন্ন হয়েছে। আশা করি, এ বছরের মধ্যে তাদের সঙ্গেও চুক্তি সই হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে আমরা এফটিএর জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছি এবং অন্যান্য যেসব মার্কেটে আমরা এখন শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাই সবার কাছেই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং আমরা সেখানে আলোচনা সহসাই শুরু করবো।’

রমজানের প্রস্তুতির ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রমজানের বাজার, নিত্যপণ্যের মূল্য এবং রমজান মাস ভিত্তিক যেসব পণ্যের বাজার ওঠানামা করে সেগুলোর সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি। এ বছরের অবস্থা ভালো।’

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘আমাদের বিমান কেনার ব্যাপারটা তো আলোচনায় আছে। আমাদের বিমানের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আমেরিকার সঙ্গে এই চুক্তির আগেও তাদের পরিকল্পনা ছিল। আমাদের সঙ্গে শুধু বোয়িংই না, অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও আলোচনা ছিল। সেটা মোটামুটি এগিয়েছেও। আমেরিকান রেসিপ্রোকাল ট্যারিফের প্রসঙ্গ যেহেতু আসছে তখন তো ওইটা আমরা যতটুক জানি, তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’

তিনি আরও বলেন, বোয়িং কতগুলো, কোন বছর সরবরাহ করতে পারবে, কী দাম হবে, আমাদের বোয়িংয়ের ভেতরের কনফিগারেশন কী হবে- এসব নিয়ে আলোচনা আছে, সেটা চলছে।

এখানে কি যুদ্ধবিমানও আছে এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, যুদ্ধবিমান এই চুক্তির আওতায় কখনোই আসবে না। মিলিটারি ইস্যুটা কখনো ট্রেড ইস্যুতে থাকে না।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন