ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে কড়া নজরদারি, ক্যামেরা-ড্রোন-ডগ স্কোয়াডে নিরাপত্তা জোরদার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ঝুঁকিপূর্ণ বা অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা ও বডি-ওর্ন ক্যামেরা, ড্রোন এবং ডগ স্কোয়াড ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
ইসি সূত্র জানায়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও নাশকতার আশঙ্কা থাকায় দেশজুড়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তর। এর অংশ হিসেবে সারা দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৫ হাজার ৮৪৭টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা মোট কেন্দ্রের অর্ধেকেরও বেশি।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বুধবার বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সাধারণ কেন্দ্রের তুলনায় বেশি সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। এসব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। যেখানে তা সম্ভব হবে না, সেখানে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী কোথাও বিজিবি, কোথাও সেনাবাহিনী বা বিমানবাহিনীর সদস্যরা টহল ও মুভমেন্টে থাকবেন এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫১, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৪ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ১২০ জন। ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ২ হাজার ১৭ জন প্রার্থী।
পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্র জানায়, নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, আনসার, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, র্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
সূত্র আরও জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোর মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম রেঞ্জে সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ঢাকা রেঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৪ হাজার ৫৬৪টি এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জে ৫ হাজার ১৭২টি। ভোটের দিন অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে তিনজন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে দুইজন এবং সাধারণ কেন্দ্রে একজন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি কেন্দ্রে ১০ জন আনসার সদস্য ও একজন সহকারী সেকশন কমান্ডার থাকবেন।
নিরাপত্তা জোরদারে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে মোট ২৫ হাজার ৫০০টি বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে ১৫ হাজার ক্যামেরা লাইভ স্ট্রিমিং সক্ষম এবং ১০ হাজার ক্যামেরা অফলাইনে ভিডিও ধারণ করবে। পাশাপাশি ব্যবহার করা হবে প্রায় ৫০০ ড্রোন ও ৫০টির মতো ডগ স্কোয়াড। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে।
নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম বলেন, ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে যেন আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কোনো আস্থার সংকট তৈরি না হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সে অনুযায়ীই নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।
এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সূত্র জানায়, ভোটের দিন রাজধানীর ২ হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্রে প্রায় ২৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। চারটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নজরদারি করা হবে। ঢাকায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ১ হাজার ৮৩১টি। ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) ফারুক হোসেন বলেন, ভোটের আগে, ভোটের দিন ও ভোটের পর—এই তিন ধাপে পৃথক নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।



