ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন বৈষম্য দূর করতে নতুন নীতিমালা জারি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম
সারাদেশের মসজিদগুলোর জনবল কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি জারি করা সরকারি গেজেটে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর আওতায় বিভিন্ন গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
জাতীয় বেতন স্কেলে মসজিদের পদমর্যাদা
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী মসজিদের বিভিন্ন পদে কর্মরত জনবলের জন্য পৃথক গ্রেড নির্ধারণ করা হয়েছে। গেজেট অনুযায়ী—
সিনিয়র পেশ ইমাম: ৫ম গ্রেড
পেশ ইমাম: ৬ষ্ঠ গ্রেড
ইমাম: ৯ম গ্রেড
মুয়াজ্জিন: প্রধান মুয়াজ্জিন ১০ম এবং সাধারণ মুয়াজ্জিন ১১তম গ্রেড
খাদেম: প্রধান খাদেম ১৫তম এবং সাধারণ খাদেম ১৬তম গ্রেড
অন্যান্য কর্মী: নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য ২০তম গ্রেড
তবে খতিবদের ক্ষেত্রে ভিন্ন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তাঁদের সম্মানী বা বেতন সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটির সঙ্গে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
আচরণবিধি ও নৈতিক নির্দেশনা
বেতন কাঠামোর পাশাপাশি মসজিদের জনবলের জন্য একটি আচরণবিধিও নির্ধারণ করা হয়েছে। গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে—
রাজনীতিমুক্ত থাকা: মসজিদের কোনো জনবল রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন না।
নৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা: ইমাম ও খতিবদের মুসল্লি ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় ও নৈতিক মানোন্নয়নে সক্রিয় থাকতে হবে।
দায়িত্ব পালনে শৃঙ্খলা: অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা বা দায়িত্ব অবহেলা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তবায়ন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। গেজেট অনুযায়ী—
সরকারি ও মডেল মসজিদ: সরকার পরিচালিত মসজিদ ও দেশের ৫৬০টি নবনির্মিত মডেল মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনরা সরাসরি সরকারি তহবিল বা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এই স্কেলে বেতন পাবেন।
বেসরকারি বা স্থানীয় মসজিদ: পাড়া-মহল্লা বা গ্রামভিত্তিক মসজিদগুলোর ক্ষেত্রে এই গেজেট ‘আদর্শ মানদণ্ড’ হিসেবে প্রযোজ্য হবে। এসব মসজিদে বেতন প্রদানের দায়িত্ব স্থানীয় কমিটির হাতেই থাকবে, তবে সরকার নির্ধারিত কাঠামো অনুসরণে তাদের উৎসাহিত করা হবে।
নতুন এই নীতিমালার মাধ্যমে মসজিদের জনবলের মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



